মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি
- আপডেট সময় ০৭:১৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / 21
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা নবম রাতের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেছে ইরান। ওয়াশিংটনের সামরিক চাপের মুখেও নিজেদের পাল্টা হামলার সক্ষমতা অটুট রয়েছে বলে তেহরানের দাবি। এদিকে মার্কিন বাহিনীও ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে ইরানে নবম দফার হামলা শেষ হয়েছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন নিখোঁজ এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পেন্টাগন এখনো তাদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় কয়েকটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তেহরানের দাবি, এসব ঘাঁটি থেকেই ইরানের ওপর হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে বিভিন্ন বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ধারাবাহিক মার্কিন হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশটি সমান তালে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ গুদামগুলোতে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন মজুত রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সম্প্রতি এক পডকাস্টে বলেছেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বোমা হামলা চালিয়ে রাডার, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে আঘাত হানা ইরানের জন্য এখনো সহজ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সেনাদের জন্য উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে ইরান।




















