হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসসহ ৪ জনকে বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- আপডেট সময় ০৩:৫০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 35
হামের টিকা সংগ্রহে অবহেলা এবং এ–সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। রোববার, ৫ জুলাই ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ আবেদন করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
মামলার আবেদন করেন হামে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নূরজাহান বেগম ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকান হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ২২ মার্চ তাকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অসহযোগিতা ও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ শিশুটির মায়ের হাতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে তা শিশুর মুখে লাগাতে বলা হয়। তিনি তা করতে না পারলে পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন সুইপারের সহায়তায় অক্সিজেন দেন। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের জন্য সময়মতো হামের টিকা সরবরাহ না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা এবং টিকা ক্রয় ও বিতরণে অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, নিহত শিশু সাউদা মুসকানও তাদের একজন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব মৃত্যুর দায় বিবাদীরা এড়াতে পারেন না।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে করা একাধিক মামলার আবেদন খারিজ হয়েছিল।






















