ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ বৈঠক শেষে, উঠে এলো যেসব সিদ্ধান্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

 

কাতারের রাজধানী দোহায় পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয় এবং সমঝোতা বাস্তবায়ন তদারকিতে একটি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দিনের এই বৈঠকে ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকা এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন, সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করে তেহরান।

আরও পড়ুন  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার 'উসকানিমূলক' মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানালো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে পুরো চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে যেকোনো লঙ্ঘন দ্রুত নথিবদ্ধ ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবহারের বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তারা জানায়, গত জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে দোহা আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং দুই পক্ষের আলোচনা ইতিবাচক ছিল। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এবারের বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি; এটি কেবল কারিগরি বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে হবে। এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পৃথক বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান কাজেম ঘারিবাবাদি আলোচনা সমাপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য কতটা কমেছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও আলোচনা গুরুত্ব পায়। প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী এ নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রাথমিক চুক্তিতে নির্ধারিত মাশুলমুক্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ চলাচলে মাশুল আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে মনে করছেন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ বৈঠক শেষে, উঠে এলো যেসব সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ১০:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

কাতারের রাজধানী দোহায় পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয় এবং সমঝোতা বাস্তবায়ন তদারকিতে একটি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দিনের এই বৈঠকে ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকা এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন, সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করে তেহরান।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ ককেশাসে বিদেশি বাহিনী অগ্রহণযোগ্য: ইরান

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে পুরো চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে যেকোনো লঙ্ঘন দ্রুত নথিবদ্ধ ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবহারের বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তারা জানায়, গত জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে দোহা আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং দুই পক্ষের আলোচনা ইতিবাচক ছিল। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এবারের বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি; এটি কেবল কারিগরি বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে হবে। এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পৃথক বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান কাজেম ঘারিবাবাদি আলোচনা সমাপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য কতটা কমেছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও আলোচনা গুরুত্ব পায়। প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী এ নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রাথমিক চুক্তিতে নির্ধারিত মাশুলমুক্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ চলাচলে মাশুল আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে মনে করছেন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা।