কুয়াকাটায় আবারও মৃত বেলিন তিমি
- আপডেট সময় ০৭:১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 21
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। চলতি মাসে কুয়াকাটা উপকূলে এটি দ্বিতীয় মৃত তিমি, যা সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কাউয়ার চর বসুধা আইল্যান্ডসংলগ্ন সৈকতে তিমিটি শনাক্ত করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, স্থানীয় ট্যুর গাইড তরিকুল ইসলাম সকালে তিমিটি দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেন। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।
তিনি বলেন, তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৬ ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এর আগে ২০১৮, ২০২২ এবং চলতি বছরের ৩ জুনও কুয়াকাটা সৈকতে মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তিনি এর কারণ অনুসন্ধান এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে গবেষণা জোরদারের আহ্বান জানান।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটিকে বেলিন তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, খাদ্যসংকট, অসুস্থতা, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ অথবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এ ধরনের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ গবেষণার স্বার্থে তিমিটির নমুনা সংগ্রহ, প্রজাতি শনাক্ত এবং কঙ্কাল সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক জানান, তিমিটি পচাগলা অবস্থায় থাকায় দুর্গন্ধ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভোগান্তি এড়াতে বন বিভাগ ও পৌরসভার সহযোগিতায় সেটিকে মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
























