নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 12
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমে যাওয়ায় দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিতসংখ্যক শিল্প উদ্যোক্তার মধ্যেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তারা আরও সম্প্রসারিত হলেও নতুন উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটকে তিনি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আয় বৈষম্য সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় আরও বৈষম্যমূলক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এমএসএমই খাতের অবদান কম। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এ খাতের অবদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেসব শিল্প পার্কে প্লট বরাদ্দ শেষ হয়েছে, সেসব এলাকায় সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কম জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিল্প-কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।
এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন সময়ের দাবি।



















