শর্তহীনভাবে লেবানন ছাড়তে হবে ইসরায়েলকে: হিজবুল্লাহ
- আপডেট সময় ০৭:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 17
লেবাননের সব এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতির কোনো বৈধতা নেই।
শুক্রবার (২৬ জুন) টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে নাঈম কাসেম বলেন, ইসরায়েলকে লেবাননের সব অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিটি শর্ত যথাযথভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার প্রথম ধাপেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার থাকবে।
নাঈম কাসেম বলেন, ইসরায়েল শুধু নিরাপত্তার অজুহাতে নয়, লেবাননের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেখানে অবস্থান করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীর এবং বিদেশি সেনা মোতায়েনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে, যখন উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে কিন্তু লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া থাকবে না। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে হিজবুল্লাহ প্রয়োজনীয় জবাব দেবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে নাঈম কাসেম বলেন, ইরান প্রতিরোধ বজায় রেখে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি পরাজয়ের বার্তা।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।






















