ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

নেতানিয়াহুকে ‘সম্পর্ক ছিন্নের’ হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে চাপ প্রয়োগ করতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি বা ‘ডিভোর্স’-এর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে দুই নেতার মধ্যকার এমন একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বইটির সারাংশের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়। সে সময় ইসরায়েলকে পরিকল্পনাটি মেনে নিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জোরালো চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

আরও পড়ুন  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯২০ সালের 'জোনস অ্যাক্ট'-এর ওপর ৬০ দিনের অস্থায়ী মওকুফ জারি করেছেন।

বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, বিশ্বের অনেকেই তার ওপর বিরক্ত এবং আলোচনায় উপস্থিত ব্যক্তিরাও তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট।

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, তিনি সবসময় ইসরায়েলের পাশে থেকেছেন এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি দেশটির জন্য লাভজনক। তবে এটি প্রত্যাখ্যান করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের দুই দিন পর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে গাজা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ওই পরিকল্পনায় সম্মতি দেন এবং দোহায় হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিমান হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন।

তবে বইটির দাবি অনুযায়ী, শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজায় মানবিক সংকট, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর নীতির প্রতি অসন্তোষ অব্যাহত ছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাকে কখনো কখনো কঠোর অবস্থান নিতে হয়।

বইয়ে উত্থাপিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুকে ‘সম্পর্ক ছিন্নের’ হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৭:১৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে চাপ প্রয়োগ করতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি বা ‘ডিভোর্স’-এর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে দুই নেতার মধ্যকার এমন একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বইটির সারাংশের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়। সে সময় ইসরায়েলকে পরিকল্পনাটি মেনে নিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জোরালো চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পকে ‘প্রতিদিন কথা বলা’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ ম্যাক্রোর; ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ

বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, বিশ্বের অনেকেই তার ওপর বিরক্ত এবং আলোচনায় উপস্থিত ব্যক্তিরাও তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট।

বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, তিনি সবসময় ইসরায়েলের পাশে থেকেছেন এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি দেশটির জন্য লাভজনক। তবে এটি প্রত্যাখ্যান করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের দুই দিন পর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে গাজা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ওই পরিকল্পনায় সম্মতি দেন এবং দোহায় হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিমান হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন।

তবে বইটির দাবি অনুযায়ী, শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজায় মানবিক সংকট, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ইরানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর নীতির প্রতি অসন্তোষ অব্যাহত ছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাকে কখনো কখনো কঠোর অবস্থান নিতে হয়।

বইয়ে উত্থাপিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।