তিন মাসে ৫০ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 13
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন এবং ‘ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বক্তব্যে তিনি দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য রাখতে চায় না সরকার। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার যেসব বিষয় অভিন্ন রয়েছে, যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান—এসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসহ সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে হবে। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে স্কুলগামী শিশুদের জুতা, মোজা, পোশাক, ব্যাগ, বই ও মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।






















