মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, উত্তেজনা ছড়াল উপসাগরীয় অঞ্চলে
- আপডেট সময় ০৯:৪২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 14
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকার জাহাজেও হামলার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ওই জাহাজ দুটি অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিকসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কারগান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সেখানে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরান সেটি ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।
এদিকে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সমঝোতা না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
























