ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ ইরানের সমর্থকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 16

ছবি সংগৃহীত

 

জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষীদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে তারা কেবল মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখতেও সমানভাবে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় বিগত ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ৬ জন সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে ওই হামলাসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চলমান মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কুশল বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন  পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের নানা তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সহিংসতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ডের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষীদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে তারা কেবল মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখতেও সমানভাবে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় বিগত ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ৬ জন সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে ওই হামলাসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চলমান মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কুশল বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন  মেধাভিত্তিক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের নানা তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সহিংসতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ডের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।