ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 100

ছবি সংগৃহীত

 

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি -এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন এবং রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ।

আরও পড়ুন  নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে: নিহত ২

এর আগে কয়েকজন আইনজীবীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং জনবল নিয়োগসহ অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়।

তবে সরকার পরিবর্তনের পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এরপর সচিবালয় বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে দায়ের হওয়া রিটের পর হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার প্রশ্নে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এ ক্ষমতা প্রয়োগের কাঠামো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদের মূল কাঠামো পুনর্বহাল করা হয় এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাজনিত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো বিচার বিভাগেরও স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি স্বতন্ত্র অঙ্গ হিসেবে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে পৃথক সচিবালয় গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

পরে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ভবিষ্যৎ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশের ফলে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত থাকছে। এখন ১৬ জুন নির্ধারিত শুনানিতে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন

আপডেট সময় ০২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি -এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন এবং রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ।

আরও পড়ুন  ভারতের সঙ্গে নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

এর আগে কয়েকজন আইনজীবীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং জনবল নিয়োগসহ অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়।

তবে সরকার পরিবর্তনের পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এরপর সচিবালয় বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে দায়ের হওয়া রিটের পর হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার প্রশ্নে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এ ক্ষমতা প্রয়োগের কাঠামো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদের মূল কাঠামো পুনর্বহাল করা হয় এবং অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাজনিত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো বিচার বিভাগেরও স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি স্বতন্ত্র অঙ্গ হিসেবে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে পৃথক সচিবালয় গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

পরে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ভবিষ্যৎ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশের ফলে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত থাকছে। এখন ১৬ জুন নির্ধারিত শুনানিতে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।