বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে যৌথ প্রস্তাব
- আপডেট সময় ০৫:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 14
বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি ও তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি বাংলাদেশে সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিদ্যমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একই সাথে বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ককে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় ও বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।
সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তুরস্ক সরকার যে অমূল্য সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য বাংলাদেশ গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) জাতিসংঘের ওই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তিনি দেশে ফিরেছেন এবং আজ তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঢাকায় অভ্যর্থনা জানানোর সৌভাগ্য লাভ করেছেন। দুই দেশের জনগণের শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে বাংলাদেশ তার সমন্বিত ভূমিকা পালন করে যাবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর জন্য শিল্প অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তুরস্কের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) রাতে ঢাকায় পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, যাকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা।





















