ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

বলিভিয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে গণবিক্ষোভ; প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 71

ছবি সংগৃহীত

 

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবিতে খনি শ্রমিক ও গ্রামীণ ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানী লা পাজের কেন্দ্রীয় চত্বর প্লাজা মুরিলোতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ফেডারেশন অব মাইনিং কোঅপারেটিভসের নেতৃত্বে হাজার হাজার খনিশ্রমিক নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  ব্রাসেলসে যুদ্ধবিরতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে গণবিক্ষোভ

আন্দোলনকারী খনিশ্রমিকরা মূলত খনি শিল্পের আধুনিকায়ন, খনি সংক্রান্ত চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা এবং খনির কাজে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক ও জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশ বর্তমানে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বর্তমান প্রশাসন এই অস্থিরতার জন্য বিরোধী গোষ্ঠী এবং সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে দায়ী করেছে। সরকারের দাবি, মোরালেস তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলন উসকে দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বলিভিয়ার ক্ষমতায় থাকা মোরালেস এখনো গ্রামীণ অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

তবে ইভো মোরালেস সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে আমাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।” তিনি আরও বলেন, এই বিক্ষোভ কোনো চক্রান্ত নয়, বরং সংবিধান ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে বলিভিয়ায় এক চরম অস্থির ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বলিভিয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে গণবিক্ষোভ; প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় ১২:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

 

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবিতে খনি শ্রমিক ও গ্রামীণ ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানী লা পাজের কেন্দ্রীয় চত্বর প্লাজা মুরিলোতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ফেডারেশন অব মাইনিং কোঅপারেটিভসের নেতৃত্বে হাজার হাজার খনিশ্রমিক নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  ব্রাসেলসে যুদ্ধবিরতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে গণবিক্ষোভ

আন্দোলনকারী খনিশ্রমিকরা মূলত খনি শিল্পের আধুনিকায়ন, খনি সংক্রান্ত চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা এবং খনির কাজে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক ও জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশ বর্তমানে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বর্তমান প্রশাসন এই অস্থিরতার জন্য বিরোধী গোষ্ঠী এবং সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে দায়ী করেছে। সরকারের দাবি, মোরালেস তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলন উসকে দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বলিভিয়ার ক্ষমতায় থাকা মোরালেস এখনো গ্রামীণ অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

তবে ইভো মোরালেস সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে আমাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।” তিনি আরও বলেন, এই বিক্ষোভ কোনো চক্রান্ত নয়, বরং সংবিধান ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে বলিভিয়ায় এক চরম অস্থির ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।