ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে নিবন্ধনহীন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এসএমপির ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের আপত্তিতে ঝুলে আছে সমঝোতা ভিজিট ভিসায় মক্কায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা; অমান্য করলেই জরিমানা ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন ডিজি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ পটুয়াখালীতে ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার; রুমমেট নিখোঁজ ফ্রি ফায়ার খেলতে নিষেধ করায় দাউদকান্দিতে যুবকের আত্মহত্যা আসামি ইনুকে অভয় দিয়ে বিপাকে ২ পুলিশ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের কোনো পরামর্শ নিইনি: সংসদে নুর সংবিধান সংশোধন কমিটি: বিরোধী দলের কাছে ৫ সদস্যের নাম চাইলেন আইনমন্ত্রী

ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের আপত্তিতে ঝুলে আছে সমঝোতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 7

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানের দেওয়া তিন স্তরের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের একটি বিশেষ শর্ত নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয়ে ছাড় দেবে না ওয়াশিংটন।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া তিন পর্যায়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান ও লেবাননে যাবতীয় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরসমূহ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও এর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ও তৃতীয় পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম দুই ধাপ সফল হলে তবেই ইরানের আলোচিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। মূলত আলোচনার এই ক্রমধারা বা ‘সিকোয়েন্স’ নিয়েই আপত্তি তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, তেহরানকে আগে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা হবে, তারপর অন্য সবকিছু। তারা চাইছে আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা সরিয়ে নিই, কিন্তু আমি তা চাই না। ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে কোনো প্রকার সময় দিতে রাজি নয় হোয়াইট হাউস।

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে কড়া মার্কিন পাহারা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। তার মতে, অবরোধের ফলে ইরান বর্তমানে ‘দমবন্ধকর’ পরিস্থিতিতে রয়েছে এবং তারা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে না পৌঁছালে অন্য কোনো ইস্যুতে আলোচনার অগ্রগতি হবে না।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করলেও ট্রাম্পের ‘আগে পরমাণু চুক্তি’ নীতি সমঝোতার পথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অবরোধকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তেহরান তাদের শর্তে অটল থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান নিকট ভবিষ্যতে হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের আপত্তিতে ঝুলে আছে সমঝোতা

আপডেট সময় ১১:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানের দেওয়া তিন স্তরের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের একটি বিশেষ শর্ত নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয়ে ছাড় দেবে না ওয়াশিংটন।

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া তিন পর্যায়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান ও লেবাননে যাবতীয় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরসমূহ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও এর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ও তৃতীয় পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম দুই ধাপ সফল হলে তবেই ইরানের আলোচিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। মূলত আলোচনার এই ক্রমধারা বা ‘সিকোয়েন্স’ নিয়েই আপত্তি তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ: ‘আপনি যা খুশি করুন’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, তেহরানকে আগে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা হবে, তারপর অন্য সবকিছু। তারা চাইছে আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা সরিয়ে নিই, কিন্তু আমি তা চাই না। ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, পরমাণু ইস্যুতে ইরানকে কোনো প্রকার সময় দিতে রাজি নয় হোয়াইট হাউস।

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে কড়া মার্কিন পাহারা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। তার মতে, অবরোধের ফলে ইরান বর্তমানে ‘দমবন্ধকর’ পরিস্থিতিতে রয়েছে এবং তারা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে না পৌঁছালে অন্য কোনো ইস্যুতে আলোচনার অগ্রগতি হবে না।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করলেও ট্রাম্পের ‘আগে পরমাণু চুক্তি’ নীতি সমঝোতার পথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অবরোধকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তেহরান তাদের শর্তে অটল থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান নিকট ভবিষ্যতে হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।