ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাবা বা স্বামী জীবিত থাকলেও কি নারীকে পৃথক কোরবানি দিতে হবে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 121

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ইবাদত কোরবানি মূলত ব্যক্তির সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত যা জাকাতের মতোই ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

অর্থাৎ কোনো নারী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে, এক্ষেত্রে তার বাবা বা স্বামী জীবিত থাকা বা না থাকা কোনো প্রতিবন্ধক নয়।
শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকলে সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নারীকে এই ওয়াজিব ইবাদত পালন করতে হয়।

ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো মুসলিম নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক।
সাধারণত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা অপ্রয়োজনীয় সম্পদ থাকাকে কোরবানির নিসাব হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই আর্থিক মানদণ্ড নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। যদি কোনো নারীর ব্যক্তিগত মালিকানায় স্বর্ণালঙ্কার, জমি বা সঞ্চিত অর্থ থাকে যা নিসাব স্পর্শ করে, তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে কোরবানির বিধানের আওতায় পড়বেন।

আরও পড়ুন  বরগুনায় কোরবানির দিনে পশু কাটতে গিয়ে আহত ২০ জন

পারিবারিক আবহে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে, গৃহকর্তা বা স্বামী কোরবানি দিলে স্ত্রী বা কন্যার দায়িত্ব আদায় হবে কি না। ইসলামি আইনবিদদের মতে, পরিবারের একজনের কোরবানি সবার জন্য যথেষ্ট নয় যদি অন্য সদস্যরাও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।
বিবাহিত বা অবিবাহিত যে কোনো নারীর নিজস্ব সম্পদ থাকলে তাকেই সেই কোরবানির দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তবে স্বামী বা বাবা চাইলে সংশ্লিষ্ট নারী সদস্যের অনুমতি সাপেক্ষে নিজের অর্থ দিয়ে সেই কোরবানি আদায় করে দিতে পারেন।
এটি একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হবে, তবে মূল দায়বদ্ধতা ওই নারীর ওপরই বর্তাবে।

নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারদর ও সম্পদের সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো নারীর কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ নেই, তবে কিছু স্বর্ণের পাশাপাশি সামান্য রূপা, নগদ টাকা বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রূপার মূল্যকে (সাড়ে ৫২ তোলা) মানদণ্ড ধরলে ওই নারী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
বর্তমান বাজারমূল্যে রূপার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক নারীই অজান্তে ‘সাহেবে নিসাব’ বা কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর্যায়ে পড়ে যান।
শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে রাখা জমি, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সামগ্রীও এই নিসাব গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। ইসলামে নারীর স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অধিকার ও মালিকানা স্বীকৃত হওয়ায় ইবাদতের ক্ষেত্রেও তার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাই সামাজিক প্রথা বা ভুল ধারণার বশবর্তী না হয়ে সামর্থ্যবান নারীদের নিজস্ব সম্পদের হিসাব নিরূপণ করে এই ওয়াজিব ইবাদত পালনে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মূলত কোরবানি সম্পর্কের ওপর নয়, বরং একক আর্থিক সক্ষমতার ওপরই সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাবা বা স্বামী জীবিত থাকলেও কি নারীকে পৃথক কোরবানি দিতে হবে?

আপডেট সময় ১১:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ইবাদত কোরবানি মূলত ব্যক্তির সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত যা জাকাতের মতোই ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

অর্থাৎ কোনো নারী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে, এক্ষেত্রে তার বাবা বা স্বামী জীবিত থাকা বা না থাকা কোনো প্রতিবন্ধক নয়।
শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকলে সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নারীকে এই ওয়াজিব ইবাদত পালন করতে হয়।

ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো মুসলিম নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক।
সাধারণত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা অপ্রয়োজনীয় সম্পদ থাকাকে কোরবানির নিসাব হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই আর্থিক মানদণ্ড নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। যদি কোনো নারীর ব্যক্তিগত মালিকানায় স্বর্ণালঙ্কার, জমি বা সঞ্চিত অর্থ থাকে যা নিসাব স্পর্শ করে, তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে কোরবানির বিধানের আওতায় পড়বেন।

আরও পড়ুন  রেলওয়েতে কোরবানির পশু পরিবহনে ৩টি ট্রেন চালাবে

পারিবারিক আবহে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে, গৃহকর্তা বা স্বামী কোরবানি দিলে স্ত্রী বা কন্যার দায়িত্ব আদায় হবে কি না। ইসলামি আইনবিদদের মতে, পরিবারের একজনের কোরবানি সবার জন্য যথেষ্ট নয় যদি অন্য সদস্যরাও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।
বিবাহিত বা অবিবাহিত যে কোনো নারীর নিজস্ব সম্পদ থাকলে তাকেই সেই কোরবানির দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তবে স্বামী বা বাবা চাইলে সংশ্লিষ্ট নারী সদস্যের অনুমতি সাপেক্ষে নিজের অর্থ দিয়ে সেই কোরবানি আদায় করে দিতে পারেন।
এটি একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হবে, তবে মূল দায়বদ্ধতা ওই নারীর ওপরই বর্তাবে।

নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারদর ও সম্পদের সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো নারীর কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ নেই, তবে কিছু স্বর্ণের পাশাপাশি সামান্য রূপা, নগদ টাকা বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রূপার মূল্যকে (সাড়ে ৫২ তোলা) মানদণ্ড ধরলে ওই নারী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
বর্তমান বাজারমূল্যে রূপার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক নারীই অজান্তে ‘সাহেবে নিসাব’ বা কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর্যায়ে পড়ে যান।
শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে রাখা জমি, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সামগ্রীও এই নিসাব গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। ইসলামে নারীর স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অধিকার ও মালিকানা স্বীকৃত হওয়ায় ইবাদতের ক্ষেত্রেও তার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাই সামাজিক প্রথা বা ভুল ধারণার বশবর্তী না হয়ে সামর্থ্যবান নারীদের নিজস্ব সম্পদের হিসাব নিরূপণ করে এই ওয়াজিব ইবাদত পালনে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মূলত কোরবানি সম্পর্কের ওপর নয়, বরং একক আর্থিক সক্ষমতার ওপরই সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।