ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়; বিরোধী দলের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল কাল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট; বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ; আহত অন্তত ৮ দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৭৬ টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম; বুকসমান পানিতে স্থবির বন্দরনগরী মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ২ বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ নিহত ৩ উজান থেকে নামছে ঢল; ৩ জেলায় বন্যার শঙ্কা গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়নি: ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

জাপানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বড় লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

জাপানের শ্রমবাজারে বিদ্যমান দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি পাঠাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ক্যাটাগরিতে অন্তত ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে এই চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ বা ৩ লাখের বেশি কর্মসংস্থান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব। পূর্বে জাপানে মাত্র ছয়টি খাতে জনশক্তি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১৬টি খাতের সবকটিতেই দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জাপান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। সঠিক দক্ষতা ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানের মোট চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কর্মী বাংলাদেশ থেকেই পাঠানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  জাপানে দাবানলের তাণ্ডব: ৪০০ হেক্টর বনভূমি ছাই

টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছে।দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। এই বিশাল বাজার ধরতে সরকার জাপানি রীতি-নীতি, আইন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মীদের প্রস্তুত করতে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে।
এছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে জাপানের অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্ট কাজ করছে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য ১৫ লাখ টাকা জমা রাখার পূর্বশর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে।

সরকার কেবল সাধারণ কর্মী নয়, বরং শিক্ষার্থী পাঠানোর ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। জাপানে অবস্থানকালে এই শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাপানের চাহিদা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বড় লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের

আপডেট সময় ০২:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

জাপানের শ্রমবাজারে বিদ্যমান দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি পাঠাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ক্যাটাগরিতে অন্তত ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে এই চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ বা ৩ লাখের বেশি কর্মসংস্থান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব। পূর্বে জাপানে মাত্র ছয়টি খাতে জনশক্তি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১৬টি খাতের সবকটিতেই দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জাপান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। সঠিক দক্ষতা ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানের মোট চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কর্মী বাংলাদেশ থেকেই পাঠানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  জাপানের দ্বীপপুঞ্জে ১৬০০ বার ভূমিকম্পের আঘাত, আতঙ্কিত দ্বীপবাসী

টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছে।দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। এই বিশাল বাজার ধরতে সরকার জাপানি রীতি-নীতি, আইন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মীদের প্রস্তুত করতে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে।
এছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে জাপানের অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্ট কাজ করছে। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য ১৫ লাখ টাকা জমা রাখার পূর্বশর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে।

সরকার কেবল সাধারণ কর্মী নয়, বরং শিক্ষার্থী পাঠানোর ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। জাপানে অবস্থানকালে এই শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাপানের চাহিদা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং শক্তিশালী করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।