ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 114

ছবি সংগৃহীত

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ উদ্ধারের জন্য প্রতিবেশীকে স্বামীর ফোন!

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।