ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুন এইএচএসসি পাস করার সাথে সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: একই হোটেলে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপর আগেও হামলা হয়েছিল ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলা: নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশের চেষ্টায় যুবক আটক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের রূপকার রঘু রাইয়ের প্রয়াণ: শোকাতুর দুই দেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বড় বাজেট থাকলেও গবেষণায় বরাদ্দ নেই: শিক্ষামন্ত্রী নীল আলোর চেয়েও ভয়ঙ্কর রাতের ঘুম কাড়ছে স্মার্টফোনের ‘কনটেন্ট’ ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ ২৬ এপ্রিল ২০২৬: স্বর্ণের বাজার দর ছাত্রদলের প্রথম সভাপতি গোলাম সারোয়ার মিলন আর নেই

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

ছবি সংগৃহীত

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  মোটরসাইকেলে এসে ছাত্রদল নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।