স্থায়ী চুক্তির আগে ইরানি বন্দরে অবরোধ প্রত্যাহারে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি
- আপডেট সময় ১২:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 21
ইরানের সাথে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার সকালে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন অনড় অবস্থানের ফলে পাকিস্তানে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পর্বের শান্তি আলোচনা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। যুদ্ধে তার দেশ ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করছে উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা ছাড়া এই চাপ প্রশমিত করা হবে না।
অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে তারা ইসলামাবাদে কোনো আলোচনায় বসবে না।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত রোববার ওমান উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরের জলসীমায় একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও সেটি জব্দের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জানা গেছে, চীন থেকে পণ্য নিয়ে ইরানের বন্দর আব্বাসে যাওয়ার পথে জাহাজটিকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগামী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা অন্তত ২৭টি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এই জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ বিদ্যমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান গত দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেল-গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না সরলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি তারা উন্মুক্ত করবে না।
এদিকে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান তার রাজধানী ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এখনও ওয়াশিংটন থেকে রওয়ানা দেননি।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রতিনিধিরা মঙ্গলবারের মধ্যে রওয়ানা দিতে পারেন। বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার রাতে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।


























