ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে খুন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 180

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর উদ্ধার হওয়া ছয় বছরের শিশু নিশাত জাহানের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে প্রতিবেশী ইসহাক মিয়া শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। এদিকে, এই ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার বিকেলে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

নিহত নিশাত জাহান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে চিপস কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নিশাত। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির অদূরে একটি ঝোপের পাশে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন নিশাতকে ঘোরানোর কথা বলে রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে নিয়ে যান ঘাতক ইসহাক। রাতে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার পর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। শিশুটি এই কথা তার মাকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে ইসহাক তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখেন। একদিন পর সুযোগ বুঝে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার: রাজবাড়ীর জনগণের মধ্যে স্বস্তি

শনিবার দুপুরে পিবিআই অভিযুক্ত ইসহাক মিয়াকে নিয়ে আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে বিকেলে জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা জানান, ঘাতকের বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করলেও অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে খুন

আপডেট সময় ১১:২৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর উদ্ধার হওয়া ছয় বছরের শিশু নিশাত জাহানের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে প্রতিবেশী ইসহাক মিয়া শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। এদিকে, এই ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার বিকেলে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

নিহত নিশাত জাহান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে চিপস কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নিশাত। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির অদূরে একটি ঝোপের পাশে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন নিশাতকে ঘোরানোর কথা বলে রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে নিয়ে যান ঘাতক ইসহাক। রাতে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার পর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। শিশুটি এই কথা তার মাকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে ইসহাক তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখেন। একদিন পর সুযোগ বুঝে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  মানিকগঞ্জে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

শনিবার দুপুরে পিবিআই অভিযুক্ত ইসহাক মিয়াকে নিয়ে আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে বিকেলে জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা জানান, ঘাতকের বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করলেও অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।