ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 185

ছবি সংগৃহীত

 

প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর এবার অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চরম সংকটকাল, শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ দুই দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত এই কাণ্ডারি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই তিনি এই গুরুভার থেকে মুক্তি পেতে চান।

দল বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও ব্যক্তিগত ক্লান্তি ও শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন  সড়ক-রেল-নৌপথে মার্চে হতাহত ২৫০০ ছুঁইছুঁই; দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনা

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত আমাকে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু কাউন্সিলের পর আমি অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে এবং আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।” তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমান অনুকূল পরিবেশে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আর এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করেই মহাসচিব পদে পরিবর্তনের আলোচনা এখন তুঙ্গে।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ইন্তেকালের পর থেকে দলের হাল ধরেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে কার্যত মির্জা ফখরুলই দেশে বিএনপির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শত বাধা ও বারবার কারাবরণ করেও দলের ঐক্য ধরে রাখায় তিনি সব মহলে একজন ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে প্রশংসিত।

মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসর নিলে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়—এমন প্রশ্নে রাজনৈতিক পাড়ায় একটি জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “এ ধরনের কোনো আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশা আমার কখনোই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমি আমার কাজটা করেছি মাত্র।”

মির্জা ফখরুলের এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক সফর শুরু হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন থেকে উঠে আসা একজন নেতা, যিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীকালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে নামার জন্য সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ সালে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, আগামী কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মহাসচিব পদের দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের আস্থভাজন এবং দলের কাউন্সিলরদের সমর্থনে কে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন, তা দেখার জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ

আপডেট সময় ০৬:৩২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর এবার অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চরম সংকটকাল, শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ দুই দশকের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত এই কাণ্ডারি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই তিনি এই গুরুভার থেকে মুক্তি পেতে চান।

দল বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও ব্যক্তিগত ক্লান্তি ও শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিসর যৌথ মিডিয়া ফোরাম গঠনের প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতের

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত আমাকে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু কাউন্সিলের পর আমি অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে এবং আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।” তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমান অনুকূল পরিবেশে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আর এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করেই মহাসচিব পদে পরিবর্তনের আলোচনা এখন তুঙ্গে।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ইন্তেকালের পর থেকে দলের হাল ধরেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে কার্যত মির্জা ফখরুলই দেশে বিএনপির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শত বাধা ও বারবার কারাবরণ করেও দলের ঐক্য ধরে রাখায় তিনি সব মহলে একজন ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে প্রশংসিত।

মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসর নিলে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়—এমন প্রশ্নে রাজনৈতিক পাড়ায় একটি জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “এ ধরনের কোনো আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশা আমার কখনোই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমি আমার কাজটা করেছি মাত্র।”

মির্জা ফখরুলের এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক সফর শুরু হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন থেকে উঠে আসা একজন নেতা, যিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীকালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে নামার জন্য সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ সালে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, আগামী কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মহাসচিব পদের দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের আস্থভাজন এবং দলের কাউন্সিলরদের সমর্থনে কে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন, তা দেখার জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।