পাকিস্তানে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ প্রাণহানি
- আপডেট সময় ১২:৫২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 12
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলায় একটি গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলার হাট্টার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণ পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে পার্শ্ববর্তী একটি বস্তি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং এতে আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও ‘সামা টিভি’র প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড (এসএনজিপিএল) পরিচালিত একটি প্রধান পাইপলাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে তা নিকটস্থ বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই আগুনের কুণ্ডলীতে আটকা পড়েন।
জেলা ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন শিশু, দুইজন কিশোরী, দুইজন বৃদ্ধা এবং একজন পুরুষ। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের একটি বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাইপলাইনের পুরনো সংযোগ বা কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস লিক হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এর পেছনে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী। এসএনজিপিএল কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং হতাহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পাইপলাইন ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার গ্যাস সরবরাহ আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।























