আলিঙ্গনে বাড়ে মানসিক প্রশান্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা
- আপডেট সময় ০২:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 27
মানুষের আদিম প্রবৃত্তি থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান—সবখানেই স্পর্শ ও আলিঙ্গনের গুরুত্ব অপরিসীম। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা কেবল একটি আবেগীয় বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি শরীর ও মনের সুস্থতার এক অনন্য মহৌষধ। ত্বকের গভীরে থাকা ‘সি-ট্যাকটাইল’ স্নাযুগ্রাহকগুলো হালকা স্পর্শে উদ্দীপিত হয়ে সরাসরি মস্তিষ্ককে শান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সময় শরীরে নিঃসৃত হয় ‘অক্সিটোসিন’ বা বন্ডিং হরমোন, যা দ্রুত ভীতি ও দুশ্চিন্তা কাটিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
আলিঙ্গনের স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে এর উপকারিতাও ভিন্ন হয়। গবেষকরা দেখেছেন, ১০ সেকেন্ডের একটি আলিঙ্গন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং বিষণ্ণতা দূর করতে কার্যকর। অন্যদিকে, ২০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় জড়িয়ে ধরলে শরীর থেকে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃৎপিণ্ডকে শিথিল হতে সাহায্য করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই স্পর্শের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। জন্মের পর মা-বাবার সান্নিধ্য যেমন শিশুর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখে, তেমনি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রিয়জনের হাতের স্পর্শ সামাজিক একাকিত্বের কষ্ট দূর করে। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত আলিঙ্গন সাধারণ সর্দি-জ্বর হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং অসুস্থতা থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে। এমনকি বয়স্কদের দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক প্রদাহ কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অভাব দেখা দিচ্ছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘স্কিন হাঙ্গার’ বা স্পর্শের তীব্র ক্ষুধা। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে হাজারো অনলাইন সংযোগ থাকলেও মানুষের একটি উষ্ণ স্পর্শের কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে তাই নিয়মিত প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ও আলিঙ্গন অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


























