ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দীর্ঘদিন জ্বালানির আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর: সংসদে বিল পাস কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা চলন্ত লরিতে আগুন, চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ফিলিং স্টেশন দেশে হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক আর নেই শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি ১৯ এপ্রিল রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৩০ বিমান ভূপাতিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 45

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, পুলিশের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘ফারাজ রেঞ্জার্স’ বিমানটিকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। মূলত বিধ্বস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে বিমানটি ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইরানের অপর বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত করা সি-১৩০ মডেলের বিমানটি মূলত জ্বালানি রিফুয়েলিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। প্রতিবেদনে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বলা হয়েছে, “ইরানের পবিত্র ভূমিতে হামলাকারী শয়তানদের জ্বালানি সরবরাহে নিযুক্ত বিমানটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।” ইস্পাহানের আকাশে কমান্ডো ইউনিটের এই অতর্কিত হামলায় বিমানটির বর্তমান অবস্থা এবং এর আরোহীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই ঘটনার একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুটি মার্কিন সামরিক বিমান যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে ইরানে আটকে গিয়েছিল। তবে বিমানগুলো যাতে ইরানি বাহিনীর হস্তগত না হয় বা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস না হয়, সেজন্য মার্কিন সেনারাই সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি বিমানের সহায়তায় যুদ্ধবিমানের ক্রু ও উদ্ধারকারীদের সরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন  আকাশসীমা সংকট: শাহজালালে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল

গত শুক্রবার ইরানি বাহিনীর হাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়। নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধার করতে গিয়ে একের পর এক মার্কিন বিমান ইরানি রাডারে ধরা পড়ছে এবং হামলার শিকার হচ্ছে। সি-১৩০ বিমানটি মূলত সেই দীর্ঘমেয়াদী উদ্ধার অভিযানেরই একটি অংশ ছিল বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমানের এই বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তেহরান তাদের আকাশসীমা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী ও ইস্পাহান সংলগ্ন এলাকায় উচ্চমাত্রার সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সূত্র: তাসনিজ নিউজ, ফার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৩০ বিমান ভূপাতিত

আপডেট সময় ০২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, পুলিশের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘ফারাজ রেঞ্জার্স’ বিমানটিকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। মূলত বিধ্বস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে বিমানটি ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

ইরানের অপর বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূপাতিত করা সি-১৩০ মডেলের বিমানটি মূলত জ্বালানি রিফুয়েলিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। প্রতিবেদনে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বলা হয়েছে, “ইরানের পবিত্র ভূমিতে হামলাকারী শয়তানদের জ্বালানি সরবরাহে নিযুক্ত বিমানটিকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।” ইস্পাহানের আকাশে কমান্ডো ইউনিটের এই অতর্কিত হামলায় বিমানটির বর্তমান অবস্থা এবং এর আরোহীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই ঘটনার একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দুটি মার্কিন সামরিক বিমান যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে ইরানে আটকে গিয়েছিল। তবে বিমানগুলো যাতে ইরানি বাহিনীর হস্তগত না হয় বা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস না হয়, সেজন্য মার্কিন সেনারাই সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি বিমানের সহায়তায় যুদ্ধবিমানের ক্রু ও উদ্ধারকারীদের সরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন  আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা পাকিস্তানের, পাল্টা পদক্ষেপে ভারতের ৩২ বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত

গত শুক্রবার ইরানি বাহিনীর হাতে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়। নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধার করতে গিয়ে একের পর এক মার্কিন বিমান ইরানি রাডারে ধরা পড়ছে এবং হামলার শিকার হচ্ছে। সি-১৩০ বিমানটি মূলত সেই দীর্ঘমেয়াদী উদ্ধার অভিযানেরই একটি অংশ ছিল বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমানের এই বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা দুই দেশের সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তেহরান তাদের আকাশসীমা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী ও ইস্পাহান সংলগ্ন এলাকায় উচ্চমাত্রার সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সূত্র: তাসনিজ নিউজ, ফার্স