ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

এসএসসি পরীক্ষা: নকল ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর প্রস্তুতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 144

ছবি সংগৃহীত

 

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এ পরীক্ষা নকলমুক্ত ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এবার নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ক্যামেরার রেকর্ডিং কমপক্ষে ৩০ দিন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব, পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫, কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন জোরদার করতে ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে আকস্মিক অভিযান চালাবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের আলামত পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পরিদর্শনের জন্য ‘হেলিকপ্টার মিশন’ চালুর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে, যা একেবারেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

আজ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন দেশের সব শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শন শুরু করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ১৮ এপ্রিল অনলাইনে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিরা যুক্ত থাকবেন।

দেশজুড়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গম, চরাঞ্চল, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির পাশাপাশি লাইভ মনিটরিং চালু থাকবে, যাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা যায়। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ সিকিউরিটি খামে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে নির্ধারিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খোলা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কোচিং নির্ভরতা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়। পরীক্ষায় কোনো ধরনের গ্রেস মার্ক থাকবে না এবং শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

অভিভাবকরাও সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকলে নকল ও প্রশ্নফাঁস অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষা: নকল ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০৩:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এ পরীক্ষা নকলমুক্ত ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এবার নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ক্যামেরার রেকর্ডিং কমপক্ষে ৩০ দিন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব, পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  আগামী ১০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল

প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন জোরদার করতে ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে আকস্মিক অভিযান চালাবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের আলামত পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পরিদর্শনের জন্য ‘হেলিকপ্টার মিশন’ চালুর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে, যা একেবারেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

আজ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন দেশের সব শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শন শুরু করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ১৮ এপ্রিল অনলাইনে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিরা যুক্ত থাকবেন।

দেশজুড়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্গম, চরাঞ্চল, উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির পাশাপাশি লাইভ মনিটরিং চালু থাকবে, যাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা যায়। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ সিকিউরিটি খামে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে নির্ধারিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খোলা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কোচিং নির্ভরতা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়। পরীক্ষায় কোনো ধরনের গ্রেস মার্ক থাকবে না এবং শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

অভিভাবকরাও সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকলে নকল ও প্রশ্নফাঁস অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।