আম ব্যবসায় ভুয়া অর্ডারের হানা, জামায়াত কর্মীদের দায়ী করলেন আমজনতার তারেক
- আপডেট সময় ০৫:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 36
‘আমজনতার দল’-এর সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান তার পরিচালিত আম ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের দায়ী করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অভিযোগ ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান জানান, একসময় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় জীবিকার তাগিদে আমের ব্যবসা শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ‘এফ-কমার্স’-এর মাধ্যমে তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত বছরের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফেসবুক বুস্টিং এবং ‘জিরো অ্যাডভান্স’ (অগ্রিম টাকা ছাড়া) পদ্ধতিতে পণ্য সরবরাহের সময় প্রচুর অর্ডার আসলেও এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই ছিল ভুয়া বা ফেক অর্ডার। ক্রেতারা পণ্য অর্ডার করলেও ডেলিভারির সময় ফোন ধরতেন না। পরবর্তীতে এই ক্ষতি এড়াতে ৫০০ টাকা অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম চালু করলে অর্ডারের সংখ্যা কমলেও লোকসান বন্ধ হয়।
তারেক রহমানের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াত কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ভুয়া অর্ডার দিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এক গ্রাহক প্রথমে গোপালভোগ আম অর্ডার করে আকারের অজুহাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি দুই মণ আমের বড় অর্ডার দেন। পূর্ব পরিচিত ভেবে অগ্রিম টাকা ছাড়াই পণ্য পাঠানো হলে ওই গ্রাহক শেষ মুহূর্তে আম নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ব্যবসায়িক এই হয়রানির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর ক্রেতা পক্ষ কিছু আম রেখে বাকি আমের মূল্য পরিশোধ করতে সম্মত হয়।
তারেক রহমানের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এফ-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসায় ভুয়া অর্ডারজনিত ঝুঁকি এবং জামানত ছাড়া পণ্য সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেতে আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।
























