অ্যাপোলোর পর এবার আর্টেমিস: চন্দ্রাভিযানের নতুন অধ্যায়
- আপডেট সময় ০১:২৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 32
অর্ধশতক পর চাঁদের কক্ষপথে আবারও মানুষ পাঠানোর এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে নাসা। ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের মাধ্যমে চারজন নভোচারী চাঁদের খুব কাছ থেকে ঘুরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি কেবল একটি চন্দ্রাভিযান নয়, বরং মহাকাশে মার্কিন আধিপত্য ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের সোপান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্টেমিস কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও বিবর্তন
২০১৭-১৮ সালে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় নাসা মঙ্গল গ্রহের চেয়ে চাঁদে ফেরার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, যা ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করে। মূলত বাতিল হওয়া ‘কনস্টেলেশন’ কর্মসূচির এসএলএস রকেট ও ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলকে কেন্দ্র করেই এই নতুন পরিকল্পনা সাজানো হয়। ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউস ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলে প্রকল্পের গতি বাড়ে। এরপর ২০২২ সালে ‘আর্টেমিস ১’-এর সফল চালকবিহীন উৎক্ষেপণ গভীর মহাকাশে ওরিয়ন মহাকাশযানের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও ল্যান্ডার নির্বাচন
প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং কোভিড মহামারীর কারণে প্রকল্পের সময়সূচি কয়েক দফা পিছিয়েছে। নাসা তাদের প্রথম লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-কে বেছে নিলেও পরবর্তীতে জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’-কেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সাল পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬: নতুন নেতৃত্ব ও আমূল পরিবর্তন
২০২৬ সালে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্টেমিস কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। তিনি প্রস্তাবিত ‘লুনার গেটওয়ে’ স্পেস স্টেশনের পরিকল্পনা বাতিল করে সেই সরঞ্জামগুলো সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এছাড়া নভোচারীদের অভিজ্ঞতা বা ‘মাসল মেমরি’ বাড়াতে মূল অবতরণের আগে আরও একটি অতিরিক্ত মানববাহী মিশন যুক্ত করা হয়েছে।
আর্টেমিস ২: ১ এপ্রিলের মাহেন্দ্রক্ষণ
আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘আর্টেমিস ২’ উৎক্ষেপণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ১০ দিনের এই মিশনে রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান জেরেমি হ্যানসেন চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন। যদিও তারা চাঁদের পৃষ্ঠে নামবেন না, তবে এই মিশনটি ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা ও হিট শিল্ডের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য:
আর্টেমিস কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এ দশকের শেষভাগে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ল্যান্ডার ব্যবহার করে মানুষকে আবারও চাঁদের মাটিতে ফিরিয়ে নেওয়া। স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতায় যার ল্যান্ডার আগে প্রস্তুত হবে, সেটি ব্যবহার করেই প্রথম দলটি চাঁদে অবতরণ করবে। নাসার মতে, চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করাই হবে মঙ্গলে পা রাখার প্রথম ধাপ।

























