ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, নিরাপত্তা শঙ্কায় আবাসন ছাড়ছেন সেনারা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 30

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে চরম নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। জীবন বাঁচাতে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেক মার্কিন সেনা তাদের স্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে নিকটবর্তী হোটেল ও সাধারণ অফিস স্পেসে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজের ভূ-অবস্থানভিত্তিক বিশ্লেষণের বরাতে জানা যায়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১০৪টি মার্কিন ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত ১৩টি ঘাঁটি বর্তমানে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটি, যেখানে অন্তত ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এসব ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি অনুসারে, এই অভিযানে তাদের অস্ত্রাগারের অন্যতম শক্তিশালী ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাদ যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানের একটি আমেরিকান রাডার সিস্টেম এবং কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টেনা অ্যারে উল্লেখযোগ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনার ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দুবাইয়ের একটি হোটেল এবং উপকূলীয় এলাকায় আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আল-শুয়াইখ বন্দরে থাকা ছয়টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও ‘কাদের-৩৮০’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে একটি ‘চূড়ান্ত হামলার’ পরিকল্পনা করছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে পেন্টাগন ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ইয়াল হুলাতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি কৌশল গ্রহণ করছেন যা ইরানকে কোনো ধরনের ‘প্রতীকী বিজয়’ দাবি করার সুযোগ দেবে না।

সেনাদের ঘাঁটির বাইরে সাধারণ হোটেল বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান নেওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন স্যাটেলাইট সংস্থাগুলো গত ১৪ দিন ধরে ছবি প্রকাশে বিলম্ব করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট। তবে বিরাজমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর মনোবলে বড় ধরনের চির ধরেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, নিরাপত্তা শঙ্কায় আবাসন ছাড়ছেন সেনারা

আপডেট সময় ০৪:১৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে চরম নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। জীবন বাঁচাতে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেক মার্কিন সেনা তাদের স্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে নিকটবর্তী হোটেল ও সাধারণ অফিস স্পেসে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজের ভূ-অবস্থানভিত্তিক বিশ্লেষণের বরাতে জানা যায়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১০৪টি মার্কিন ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত ১৩টি ঘাঁটি বর্তমানে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটি, যেখানে অন্তত ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এসব ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি অনুসারে, এই অভিযানে তাদের অস্ত্রাগারের অন্যতম শক্তিশালী ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাদ যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানের একটি আমেরিকান রাডার সিস্টেম এবং কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টেনা অ্যারে উল্লেখযোগ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনার ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দুবাইয়ের একটি হোটেল এবং উপকূলীয় এলাকায় আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আল-শুয়াইখ বন্দরে থাকা ছয়টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও ‘কাদের-৩৮০’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে একটি ‘চূড়ান্ত হামলার’ পরিকল্পনা করছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে পেন্টাগন ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ইয়াল হুলাতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি কৌশল গ্রহণ করছেন যা ইরানকে কোনো ধরনের ‘প্রতীকী বিজয়’ দাবি করার সুযোগ দেবে না।

সেনাদের ঘাঁটির বাইরে সাধারণ হোটেল বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান নেওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন স্যাটেলাইট সংস্থাগুলো গত ১৪ দিন ধরে ছবি প্রকাশে বিলম্ব করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট। তবে বিরাজমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর মনোবলে বড় ধরনের চির ধরেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।