ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গ্রীস — একটি সভ্যতার সূতিকাগার জেল থেকে যেভাবে ‘আলোর পথ’ পেলেন অভিনেতা সিদ্দিক স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল: তারেক রহমান বাংলাদেশে এখনো স্ট্যান্ডার্ড ন্যূনতম মজুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি: রুহুল কবির রিজভী ঝিনাইদহে পুলিশের পোশাক ও ইয়াবাসহ ৫ ভুয়া পুলিশ গ্রেপ্তার উগান্ডায় বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকসহ ২৩১ জন বিদেশি আটক মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ড; তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ যুদ্ধবিরতির সুযোগে মাটির নিচ থেকে অস্ত্র ও মিসাইল তুলছে ইরান নারায়ণগঞ্জে টহল পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা; শটগান উদ্ধার, আটক ৩ নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে বিপুল জনসমাগম; প্রধান অতিথি তারেক রহমান

ঢাবির ফজলুল হক হলে যুবক হত্যাকাণ্ড: ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / 84

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকায় ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে এক যুবককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। পরে তার বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে কিছু শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন—এমন অভিযোগ এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই যুবককে দক্ষিণ ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই নতুন বই পাবে : অর্থ উপদেষ্টা

ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে নারাজি দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম পুনঃতদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আগের তালিকার সঙ্গে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুই আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, চারজন কারাগারে আছেন এবং বাকি ২২ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবির ফজলুল হক হলে যুবক হত্যাকাণ্ড: ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকায় ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে এক যুবককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। পরে তার বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে কিছু শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন—এমন অভিযোগ এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই যুবককে দক্ষিণ ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  সাজিদের মৃত্যুতে ইবিতে বিক্ষোভ, তদন্তের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও গায়েবানা জানাজা

ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে নারাজি দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম পুনঃতদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আগের তালিকার সঙ্গে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুই আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, চারজন কারাগারে আছেন এবং বাকি ২২ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা।