ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

নেপাল নির্বাচন ২০২৬: ভোট ৫ মার্চ, লড়াইয়ে ওলি-বালেনসহ শীর্ষ নেতারা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আগামী ৫ মার্চ ভোট দেবে নেপালের জনগণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে সরকার পতনের পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

সরকার পতনের পর থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে। তারা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

আরও পড়ুন  একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

কীভাবে হবে ভোট

নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার ২৭৫টি আসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দেবেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ নতুন ভোটার রয়েছেন।

দেশটিতে ২০১৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী মিশ্র নির্বাচনি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোট বা ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এই পদ্ধতিতে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পান, তিনিই বিজয়ী হন। বাকি ১১০টি আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়।

৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজারের বেশি প্রার্থীর বয়স ৪০ বছরের নিচে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে কিছু এলাকায় প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানো হতে পারে।

প্রধান প্রার্থীরা কারা

এবারের নির্বাচনে কয়েকজন প্রার্থীর দিকে বিশেষ নজর রয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, ঝাপা-৫ আসনে লড়ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে। দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জনঅসন্তোষের মুখে গত সেপ্টেম্বরে ওলির সরকার পদত্যাগ করে।

বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রার্থী। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি চতুর্থ হয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার তারা আরও ভালো ফল করতে পারে। শাহকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নেপালি কংগ্রেসও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে। দলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে।

এ ছাড়া ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং সাবেক মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

কোন আসনে তীব্র লড়াই

পূর্ব নেপালের ঝাপা জেলার ঝাপা-৫ আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘদিন ধরে ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সেখানে বালেন্দ্র শাহ প্রার্থী হওয়ায় লড়াই জমে উঠেছে।

কাঠমান্ডুর ১৫টি আসনও পর্যবেক্ষণে থাকবে। নগরভিত্তিক ভোটের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে এসব আসনকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।

নির্বাচনের প্রধান ইস্যু

গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন। বিক্ষোভের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থেকে হলেও পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।

এবারের নির্বাচনে সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। নেপালি কংগ্রেস ১৯৯০ সাল থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী ভারত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। অন্যদিকে ওলির আমলে চীনের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক জোরদার হয়।

চীন চায় ভবিষ্যৎ সরকার তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা রাখুক। যুক্তরাষ্ট্রও নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থানে রয়েছে।

ফল জানা যাবে কবে

নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সরাসরি ভোটের ১৬৫টি আসনের ফল ব্যালট বাক্স সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে। তবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক ১১০টি আসনের ফল গণনায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছিল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ব্যালট সংগ্রহ, পরিবহন জটিলতা এবং গণনাকেন্দ্রে আপত্তি উত্থাপনের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয় বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপাল নির্বাচন ২০২৬: ভোট ৫ মার্চ, লড়াইয়ে ওলি-বালেনসহ শীর্ষ নেতারা

আপডেট সময় ০৭:০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আগামী ৫ মার্চ ভোট দেবে নেপালের জনগণ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে সরকার পতনের পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

সরকার পতনের পর থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে। তারা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

আরও পড়ুন  জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে: ড. মঈন খান

কীভাবে হবে ভোট

নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার ২৭৫টি আসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দেবেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ নতুন ভোটার রয়েছেন।

দেশটিতে ২০১৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী মিশ্র নির্বাচনি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোট বা ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এই পদ্ধতিতে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পান, তিনিই বিজয়ী হন। বাকি ১১০টি আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়।

৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজারের বেশি প্রার্থীর বয়স ৪০ বছরের নিচে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তবে কিছু এলাকায় প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানো হতে পারে।

প্রধান প্রার্থীরা কারা

এবারের নির্বাচনে কয়েকজন প্রার্থীর দিকে বিশেষ নজর রয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, ঝাপা-৫ আসনে লড়ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে। দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জনঅসন্তোষের মুখে গত সেপ্টেম্বরে ওলির সরকার পদত্যাগ করে।

বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রার্থী। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি চতুর্থ হয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার তারা আরও ভালো ফল করতে পারে। শাহকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নেপালি কংগ্রেসও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে। দলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে।

এ ছাড়া ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং সাবেক মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

কোন আসনে তীব্র লড়াই

পূর্ব নেপালের ঝাপা জেলার ঝাপা-৫ আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘদিন ধরে ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সেখানে বালেন্দ্র শাহ প্রার্থী হওয়ায় লড়াই জমে উঠেছে।

কাঠমান্ডুর ১৫টি আসনও পর্যবেক্ষণে থাকবে। নগরভিত্তিক ভোটের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে এসব আসনকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।

নির্বাচনের প্রধান ইস্যু

গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন। বিক্ষোভের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থেকে হলেও পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।

এবারের নির্বাচনে সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। নেপালি কংগ্রেস ১৯৯০ সাল থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী ভারত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। অন্যদিকে ওলির আমলে চীনের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক জোরদার হয়।

চীন চায় ভবিষ্যৎ সরকার তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা রাখুক। যুক্তরাষ্ট্রও নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থানে রয়েছে।

ফল জানা যাবে কবে

নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সরাসরি ভোটের ১৬৫টি আসনের ফল ব্যালট বাক্স সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে। তবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক ১১০টি আসনের ফল গণনায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছিল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ব্যালট সংগ্রহ, পরিবহন জটিলতা এবং গণনাকেন্দ্রে আপত্তি উত্থাপনের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয় বলে জানা গেছে।