ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থী উগ্রবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 237

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা বামপন্থি ‘সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’ ভেঙে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এ উদ্যোগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করে আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, সোমবার কার্কের নিজস্ব পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, তারা “বৃহৎ দেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক” ধ্বংসে কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন  ভোটের আগে প্রশাসনে রদবদল : উপ-প্রেস সচিব

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, “যে সংগঠিত ষড়যন্ত্রে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ আমরা কাজে লাগাব। চার্লির নামে আমরা এসব নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেব।”

যদিও তদন্তে এখনো কার্ক হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ডানপন্থিদের একটি বড় অংশ সরাসরি বামপন্থি মতাদর্শকে দায়ী করছে। ভ্যান্স ও মিলার দুজনেই দাবি করেন, বামপন্থি উগ্রবাদই এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা সেই এনজিও নেটওয়ার্কগুলোকেও টার্গেট করব, যারা সহিংসতা উসকে দেয় বা সহায়তা করে।” তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার দুই দিনের অভিযানের পর ইউটার ২২ বছর বয়সী তরুণ টাইলার রবিনসনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে। রবিবার ইউটার গভর্নর স্পেনসার কক্স জানান, অভিযুক্ত তরুণ রিপাবলিকান পরিবারে জন্মালেও বামপন্থি মতাদর্শ গ্রহণ করেছিলেন। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্ত্র সহজলভ্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর ট্রাম্পের ওপর দুই দফা হামলার চেষ্টা হয়। চলতি বছরের জুনে মিনেসোটায় এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও তাঁর স্বামী নিহত হন মুখোশধারী বন্দুকধারীর হাতে। মে মাসে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর বাড়িতেও হামলা হয়।

সবশেষ গত বুধবার ইউটার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে গুলিতে নিহত হন চার্লি কার্ক। তিনি ডানপন্থি ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সোমবারের পডকাস্টে ভ্যান্স তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “তিনি ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট এবং আমাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পেছনে তার অবদান ছিল অসামান্য। গত সাত মাসে আমাদের যে অর্জন এসেছে, তার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে চার্লির অক্লান্ত প্রচেষ্টায়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থী উগ্রবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন

আপডেট সময় ১০:৩২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা বামপন্থি ‘সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’ ভেঙে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এ উদ্যোগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করে আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, সোমবার কার্কের নিজস্ব পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, তারা “বৃহৎ দেশীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক” ধ্বংসে কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প প্রশাসনের বড় সিদ্ধান্ত: তদন্ত দলের একাধিক আইনজীবীদের বরখাস্ত

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, “যে সংগঠিত ষড়যন্ত্রে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ আমরা কাজে লাগাব। চার্লির নামে আমরা এসব নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেব।”

যদিও তদন্তে এখনো কার্ক হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ডানপন্থিদের একটি বড় অংশ সরাসরি বামপন্থি মতাদর্শকে দায়ী করছে। ভ্যান্স ও মিলার দুজনেই দাবি করেন, বামপন্থি উগ্রবাদই এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা সেই এনজিও নেটওয়ার্কগুলোকেও টার্গেট করব, যারা সহিংসতা উসকে দেয় বা সহায়তা করে।” তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার দুই দিনের অভিযানের পর ইউটার ২২ বছর বয়সী তরুণ টাইলার রবিনসনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে। রবিবার ইউটার গভর্নর স্পেনসার কক্স জানান, অভিযুক্ত তরুণ রিপাবলিকান পরিবারে জন্মালেও বামপন্থি মতাদর্শ গ্রহণ করেছিলেন। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্ত্র সহজলভ্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর ট্রাম্পের ওপর দুই দফা হামলার চেষ্টা হয়। চলতি বছরের জুনে মিনেসোটায় এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও তাঁর স্বামী নিহত হন মুখোশধারী বন্দুকধারীর হাতে। মে মাসে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর বাড়িতেও হামলা হয়।

সবশেষ গত বুধবার ইউটার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে গুলিতে নিহত হন চার্লি কার্ক। তিনি ডানপন্থি ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সোমবারের পডকাস্টে ভ্যান্স তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “তিনি ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক। ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট এবং আমাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পেছনে তার অবদান ছিল অসামান্য। গত সাত মাসে আমাদের যে অর্জন এসেছে, তার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে চার্লির অক্লান্ত প্রচেষ্টায়।”