ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

চীনের সাইবার যুদ্ধে অগ্রগতি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিপর্যস্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 448

ছবি সংগৃহীত

 

 

চীন এখন সাইবার জগতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। তাদের রাষ্ট্রনির্ভর কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতনির্ভর বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে হারিয়ে দিচ্ছে।
এর ফলে মার্কিন অবকাঠামো ভয়াবহ সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন

🔸 চীনের সাইবার দুর্গ

চীনের “গ্রেট ফায়ারওয়াল” নামক সিস্টেম শুধু অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণেই নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ঢাল হিসেবেও কাজ করছে।

এটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা নেটওয়ার্কে হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢোকার আগেই আটকে দেয়।

রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের কারণে তাৎক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় এবং বিদেশি হ্যাকারদের কার্যক্রম প্রায়ই ব্যর্থ হয়।

🔸 মার্কিন দুর্বল দিকগুলো

যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ, টেলিকমসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল।
এদের অনেকেই পুরনো সফটওয়্যার বা দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। আবার গোপনীয়তা রক্ষার আইন সরকারকে সরাসরি তত্ত্বাবধান থেকে বিরত রাখে—এ সুযোগই হ্যাকাররা সহজে কাজে লাগায়।

🔸 “সল্ট টাইফুন” হামলা

তিন বছর আগে চীনা হ্যাকারদের সাথে যুক্ত “সল্ট টাইফুন” টিম যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম খাতে বড় ধরনের হামলা চালায়।
এসময় তারা দুর্বল সাইবার টুলস ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার স্থাপন করে, যার মাধ্যমে ফোন কল নজরদারি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।

🔸 চীনের সাইবার অস্ত্রাগার

চীন “অ্যাকটিভ ডিফেন্স” কৌশল গ্রহণ করেছে। মার্কিন জ্বালানি, পাইপলাইন ও পরিবহন ব্যবস্থায় আগে থেকেই ম্যালওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে।
তাই প্রয়োজনে ব্ল্যাকআউট, সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, এমনকি তাইওয়ান ইস্যুতে কৌশলগত সুবিধা নেওয়া সম্ভব—যুদ্ধ ছাড়াই।

🔸 মার্কিন দুর্বল প্রতিক্রিয়া

রাশিয়া ও ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের পানী সরবরাহ ব্যবস্থা ও হাসপাতালগুলোতে সাইবার হামলা চালিয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইউটিলিটি খাতের জন্য নতুন সাইবার নিয়ম চালু করেছে, তবে তা চীনের রিয়েল-টাইম প্রতিরক্ষার সমতুল্য নয়।

🔸 ব্যবধান

চীনের রাষ্ট্রীয় সিস্টেম একই সাথে সাইবার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে অদ্বিতীয় শক্তি এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নির্ভরশীল মডেল ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে।

শক্তিশালী এআই ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক সাইবার সক্ষমতা গড়ে না তুললে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব দুই দিকেই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের সাইবার যুদ্ধে অগ্রগতি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিপর্যস্ত

আপডেট সময় ০৩:৩০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

 

 

চীন এখন সাইবার জগতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। তাদের রাষ্ট্রনির্ভর কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতনির্ভর বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে হারিয়ে দিচ্ছে।
এর ফলে মার্কিন অবকাঠামো ভয়াবহ সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন

🔸 চীনের সাইবার দুর্গ

চীনের “গ্রেট ফায়ারওয়াল” নামক সিস্টেম শুধু অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণেই নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ঢাল হিসেবেও কাজ করছে।

এটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা নেটওয়ার্কে হামলার উদ্দেশ্যে তৈরি ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢোকার আগেই আটকে দেয়।

রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের কারণে তাৎক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় এবং বিদেশি হ্যাকারদের কার্যক্রম প্রায়ই ব্যর্থ হয়।

🔸 মার্কিন দুর্বল দিকগুলো

যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎ, টেলিকমসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল।
এদের অনেকেই পুরনো সফটওয়্যার বা দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। আবার গোপনীয়তা রক্ষার আইন সরকারকে সরাসরি তত্ত্বাবধান থেকে বিরত রাখে—এ সুযোগই হ্যাকাররা সহজে কাজে লাগায়।

🔸 “সল্ট টাইফুন” হামলা

তিন বছর আগে চীনা হ্যাকারদের সাথে যুক্ত “সল্ট টাইফুন” টিম যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম খাতে বড় ধরনের হামলা চালায়।
এসময় তারা দুর্বল সাইবার টুলস ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার স্থাপন করে, যার মাধ্যমে ফোন কল নজরদারি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়।

🔸 চীনের সাইবার অস্ত্রাগার

চীন “অ্যাকটিভ ডিফেন্স” কৌশল গ্রহণ করেছে। মার্কিন জ্বালানি, পাইপলাইন ও পরিবহন ব্যবস্থায় আগে থেকেই ম্যালওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে।
তাই প্রয়োজনে ব্ল্যাকআউট, সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, এমনকি তাইওয়ান ইস্যুতে কৌশলগত সুবিধা নেওয়া সম্ভব—যুদ্ধ ছাড়াই।

🔸 মার্কিন দুর্বল প্রতিক্রিয়া

রাশিয়া ও ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের পানী সরবরাহ ব্যবস্থা ও হাসপাতালগুলোতে সাইবার হামলা চালিয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইউটিলিটি খাতের জন্য নতুন সাইবার নিয়ম চালু করেছে, তবে তা চীনের রিয়েল-টাইম প্রতিরক্ষার সমতুল্য নয়।

🔸 ব্যবধান

চীনের রাষ্ট্রীয় সিস্টেম একই সাথে সাইবার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে অদ্বিতীয় শক্তি এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নির্ভরশীল মডেল ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে।

শক্তিশালী এআই ব্যবহার ও আক্রমণাত্মক সাইবার সক্ষমতা গড়ে না তুললে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব দুই দিকেই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।