ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাকিব ফিরলে দলের কম্বিনেশন ভালো হয়: শান্ত চিলি: আন্দেস থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত এক দীর্ঘ দেশ সরকারি কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট ডেস্কে থাকা বাধ্যতামূলক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রাণ গেল ফায়ার সার্ভিস সদস্যের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ ও ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ সেলের অগ্রগতি পর্যালোচনা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দেশপ্রেম ও পেশাদারত্বের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে অভিযান চালানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি: সীমান্ত বন্ধে দিশেহারা ২০ লাখ মানুষ দুবাইয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইট কর্পোরেট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসীর, নিখোঁজ বহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 197

ছবি: সংগৃহীত

 

আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। নৌকাটিতে ছিলেন দেড় শতাধিক যাত্রী, যারা সবাই ছিলেন আফ্রিকান নাগরিক।

সোমবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন  অভিবাসী মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়াল: ২০২৪ সাল ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক বছর’

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মোট ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ উপকূলে ভেসে আসে, আর বাকি ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথমে মৃতের সংখ্যা ৫৪ জন বলে জানিয়েছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানিয়েছেন, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার নিকটে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত অভিবাসন রুট। তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই রুটে অভিবাসনের প্রবণতা আরও বেড়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করায় সহিংসতা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশগুলোর মানুষ এখনও ইয়েমেনে আশ্রয় নিতে বা উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করতে গিয়ে এ পথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম বলছে, আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট। অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঘটছে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৩ সালের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার ফলে এই হ্রাস ঘটেছে।

তবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আইওএমের তথ্য বলছে, গত বছর এই রুটে ৫৫৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে সমুদ্রপথে ডুবে।

বর্তমানে ইয়েমেনজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসীর, নিখোঁজ বহু

আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। নৌকাটিতে ছিলেন দেড় শতাধিক যাত্রী, যারা সবাই ছিলেন আফ্রিকান নাগরিক।

সোমবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশিসহ ৪৩ অভিবাসীর ইতালিতে ফেরা নিশ্চিত, আদালতের নির্দেশ কার্যকর

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মোট ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ উপকূলে ভেসে আসে, আর বাকি ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথমে মৃতের সংখ্যা ৫৪ জন বলে জানিয়েছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানিয়েছেন, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার নিকটে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত অভিবাসন রুট। তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই রুটে অভিবাসনের প্রবণতা আরও বেড়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করায় সহিংসতা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশগুলোর মানুষ এখনও ইয়েমেনে আশ্রয় নিতে বা উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করতে গিয়ে এ পথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম বলছে, আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট। অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঘটছে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৩ সালের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার ফলে এই হ্রাস ঘটেছে।

তবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আইওএমের তথ্য বলছে, গত বছর এই রুটে ৫৫৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে সমুদ্রপথে ডুবে।

বর্তমানে ইয়েমেনজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।