ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হাসপাতাল বন্ধ না করে দোষীদের শাস্তি চাইলেন আদ্-দ্বীনে নিহতের বাবা শিশু সুরক্ষায় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের স্লোভাকিয়া—মধ্য ইউরোপের পাহাড়, ইতিহাস ও আধুনিক অগ্রগতির দেশ মালয়েশিয়া পাচারের সময় টেকনাফে উদ্ধার ৫০ আটক ৯ ‘পাচারকারী’ সাভারে তিন পোশাক কারখানায় ছাঁটাই, কর্মহীন প্রায় ১৯’শ শ্রমিক উত্তরখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৩ সদস্য আইসিইউতে চারদিকে মেঘ, তবুও কমছে না গরম; অস্বস্তিতে ঢাকাবাসী রোববার থেকে বাড়ছে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন ১৫ বছর বয়সেই ভারত দলে সূর্যবংশী, টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক আইয়ার

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসীর, নিখোঁজ বহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 480

ছবি: সংগৃহীত

 

আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। নৌকাটিতে ছিলেন দেড় শতাধিক যাত্রী, যারা সবাই ছিলেন আফ্রিকান নাগরিক।

সোমবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো ব্রাজিলিয়ানদের হাতকড়া পরানোর ঘটনায় ব্রাজিলের ক্ষোভ

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মোট ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ উপকূলে ভেসে আসে, আর বাকি ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথমে মৃতের সংখ্যা ৫৪ জন বলে জানিয়েছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানিয়েছেন, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার নিকটে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত অভিবাসন রুট। তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই রুটে অভিবাসনের প্রবণতা আরও বেড়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করায় সহিংসতা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশগুলোর মানুষ এখনও ইয়েমেনে আশ্রয় নিতে বা উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করতে গিয়ে এ পথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম বলছে, আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট। অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঘটছে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৩ সালের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার ফলে এই হ্রাস ঘটেছে।

তবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আইওএমের তথ্য বলছে, গত বছর এই রুটে ৫৫৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে সমুদ্রপথে ডুবে।

বর্তমানে ইয়েমেনজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসীর, নিখোঁজ বহু

আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ইয়েমেন উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৭৪ জন। নৌকাটিতে ছিলেন দেড় শতাধিক যাত্রী, যারা সবাই ছিলেন আফ্রিকান নাগরিক।

সোমবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশিসহ ৪৩ অভিবাসীর ইতালিতে ফেরা নিশ্চিত, আদালতের নির্দেশ কার্যকর

আইওএম-এর ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মোট ১৫৪ জন ইথিওপিয়ান অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খানফার জেলায় ৫৪ জনের মরদেহ উপকূলে ভেসে আসে, আর বাকি ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথমে মৃতের সংখ্যা ৫৪ জন বলে জানিয়েছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানিয়েছেন, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার নিকটে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত অভিবাসন রুট। তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই রুটে অভিবাসনের প্রবণতা আরও বেড়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেন সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করায় সহিংসতা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতপীড়িত দেশগুলোর মানুষ এখনও ইয়েমেনে আশ্রয় নিতে বা উপসাগরীয় ধনী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করতে গিয়ে এ পথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম বলছে, আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার এই সমুদ্রপথটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট। অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকায় লোহিত সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ঘটছে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৩ সালের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আইওএম-এর মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার ফলে এই হ্রাস ঘটেছে।

তবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আইওএমের তথ্য বলছে, গত বছর এই রুটে ৫৫৮ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে সমুদ্রপথে ডুবে।

বর্তমানে ইয়েমেনজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।