ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

তানভীরের স্পিন ঘুর্ণিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 429

ছবি সংগৃহীত

 

 

জয়ের সূত্র সহজ। টস জিতে ব্যাট হাতে দেখেশুনে রান তুলো, আর বল হাতে নিশানা রাখো স্টাম্পে। শ্রীলঙ্কায় প্রথম ওয়ানডের পর একই ছকে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেও জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম, যার ৫ উইকেটেই মূল পার্থক্য তৈরি হয়েছে ১৬ রানের এই জয়ে।

আরও পড়ুন  ১৫ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের কড়া পদক্ষেপ, পাঠানো হলো কারাগারে

তবে এই জয়ের ভিত রচনা করেছিলেন সেই তরুণ ক্রিকেটাররা, যারা ২০২০ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন।

যদিও ম্যাচের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার লিয়ানাগের দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল, ম্যাচসেরার মঞ্চটা তারই জন্য বরাদ্দ হবে। শ্রীলঙ্কার কোচ সনাথ জয়াসুরিয়াও আগের দিন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের তালিকায় লিয়ানাগের নাম রেখেছিলেন। ২৫ ওয়ানডেতে ৪ সেঞ্চুরির মালিক এই ব্যাটার এদিনও খেলেছিলেন অনবদ্য ৫০ রানের ইনিংস। তবে মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ওভারে লিয়ানাগের মহামূল্য উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান। এরপর দুশমন্তা চামিরাকে আউট করে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন তানজিম হাসান সাকিব।

তানজিমের উদযাপনে বাংলাদেশের জয় ছিল আরও রোমাঞ্চকর। তার নাম জড়িয়ে ছিল হৃদয়ের রান আউটের ঘটনায়, তবে ২১ বলে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস সেই আক্ষেপ অনেকটাই মুছে দিয়েছে। বোলিংয়েও নিয়েছেন দুই উইকেট, যার ফলে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তার অবদানকে জয়প্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তানভিরকে একাদশে রেখে রিশাদ হোসেনকে বসিয়ে রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনা ছিল। যদিও প্রথম ম্যাচে রিশাদ অসুস্থ ছিলেন, এবারও সুস্থ থাকার পরও তাকে বাইরে রাখা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রেমাদাসার উইকেটে সোজা বল ফেলে স্পিনারদের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি সেটিই প্রমাণ করেছেন তানভির।

তবে মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে শামীম হোসেনের খণ্ডকালীন স্পিনেরও প্রশংসা করেছেন। ৯ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া শামীম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চারিথ আসালঙ্কার উইকেট তুলে নিয়ে দলকে স্বস্তি দেন।

টানা ৭ ম্যাচ হারের পর এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পারভেজ হোসেনের উড়ন্ত শুরু, মাঝপথে ব্যাটিং ব্যর্থতা, সবকিছুর পরও ২৪৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেওয়া এক বড় প্রাপ্তি। শেষদিকে তানজিমের ছোট্ট ইনিংসও ছিল ম্যাচের রূপ বদলে দেওয়ার মতো।

এই জয় সিরিজে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে, পাশাপাশি দিয়েছে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি যা পাল্লেকেলেতে নির্ধারণী ম্যাচের আগে মিরাজদের ভীষণ প্রয়োজন। ৫ ম্যাচ পর নিজেও উইকেটের দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক, অধিনায়কত্বেও এটিই তার প্রথম জয় যা নিঃসন্দেহে দলের মনোবলকে আরও শক্ত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তানভীরের স্পিন ঘুর্ণিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১০:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

 

জয়ের সূত্র সহজ। টস জিতে ব্যাট হাতে দেখেশুনে রান তুলো, আর বল হাতে নিশানা রাখো স্টাম্পে। শ্রীলঙ্কায় প্রথম ওয়ানডের পর একই ছকে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেও জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম, যার ৫ উইকেটেই মূল পার্থক্য তৈরি হয়েছে ১৬ রানের এই জয়ে।

আরও পড়ুন  স্পেনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মনোনয়ন পেল বাংলাদেশের ‘মাস্তুল’

তবে এই জয়ের ভিত রচনা করেছিলেন সেই তরুণ ক্রিকেটাররা, যারা ২০২০ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন।

যদিও ম্যাচের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার লিয়ানাগের দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল, ম্যাচসেরার মঞ্চটা তারই জন্য বরাদ্দ হবে। শ্রীলঙ্কার কোচ সনাথ জয়াসুরিয়াও আগের দিন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের তালিকায় লিয়ানাগের নাম রেখেছিলেন। ২৫ ওয়ানডেতে ৪ সেঞ্চুরির মালিক এই ব্যাটার এদিনও খেলেছিলেন অনবদ্য ৫০ রানের ইনিংস। তবে মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ওভারে লিয়ানাগের মহামূল্য উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান। এরপর দুশমন্তা চামিরাকে আউট করে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন তানজিম হাসান সাকিব।

তানজিমের উদযাপনে বাংলাদেশের জয় ছিল আরও রোমাঞ্চকর। তার নাম জড়িয়ে ছিল হৃদয়ের রান আউটের ঘটনায়, তবে ২১ বলে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস সেই আক্ষেপ অনেকটাই মুছে দিয়েছে। বোলিংয়েও নিয়েছেন দুই উইকেট, যার ফলে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তার অবদানকে জয়প্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

তানভিরকে একাদশে রেখে রিশাদ হোসেনকে বসিয়ে রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনা ছিল। যদিও প্রথম ম্যাচে রিশাদ অসুস্থ ছিলেন, এবারও সুস্থ থাকার পরও তাকে বাইরে রাখা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রেমাদাসার উইকেটে সোজা বল ফেলে স্পিনারদের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি সেটিই প্রমাণ করেছেন তানভির।

তবে মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে শামীম হোসেনের খণ্ডকালীন স্পিনেরও প্রশংসা করেছেন। ৯ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া শামীম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চারিথ আসালঙ্কার উইকেট তুলে নিয়ে দলকে স্বস্তি দেন।

টানা ৭ ম্যাচ হারের পর এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পারভেজ হোসেনের উড়ন্ত শুরু, মাঝপথে ব্যাটিং ব্যর্থতা, সবকিছুর পরও ২৪৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেওয়া এক বড় প্রাপ্তি। শেষদিকে তানজিমের ছোট্ট ইনিংসও ছিল ম্যাচের রূপ বদলে দেওয়ার মতো।

এই জয় সিরিজে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে, পাশাপাশি দিয়েছে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি যা পাল্লেকেলেতে নির্ধারণী ম্যাচের আগে মিরাজদের ভীষণ প্রয়োজন। ৫ ম্যাচ পর নিজেও উইকেটের দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক, অধিনায়কত্বেও এটিই তার প্রথম জয় যা নিঃসন্দেহে দলের মনোবলকে আরও শক্ত করবে।