ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি হামলায় হাইফার বাজান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ৩

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 203

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন কেন্দ্র গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রিফাইনারির সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাজান গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার গভীর রাতে চালানো ইরানি হামলায় তিনজন কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন। এই স্টিম ও পাওয়ার স্টেশনটির ক্ষয়ক্ষতির কারণে রিফাইনারির জন্য অত্যাবশ্যক বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  সৌদি আরবে ইরানি মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ২, আহত ১২

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই হামলায় আমরা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতির শিকার হইনি, বরং আমাদের তিনজন সহকর্মীকে হারিয়েছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” তারা আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল ইলেকট্রিক কম্পানির সহায়তায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে।

বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারটি বহুদিন ধরেই স্থানীয় পরিবেশবাদী ও বাসিন্দাদের নজরে ছিল। এর নিকটস্থ বিশাল তেল ট্যাংক ও উচ্চমাত্রার দূষণ নিয়ে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ কারণে ২০২২ সালে ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে হাইফা উপসাগর এলাকা থেকে রিফাইনারিটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছরেই বড় তেল ট্যাংক সরানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এই হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানি হামলায় হাইফার বাজান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ৩

আপডেট সময় ১১:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন কেন্দ্র গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রিফাইনারির সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাজান গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার গভীর রাতে চালানো ইরানি হামলায় তিনজন কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন। এই স্টিম ও পাওয়ার স্টেশনটির ক্ষয়ক্ষতির কারণে রিফাইনারির জন্য অত্যাবশ্যক বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  ইরানি হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই হামলায় আমরা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতির শিকার হইনি, বরং আমাদের তিনজন সহকর্মীকে হারিয়েছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” তারা আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল ইলেকট্রিক কম্পানির সহায়তায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে।

বাজান গ্রুপের তেল শোধনাগারটি বহুদিন ধরেই স্থানীয় পরিবেশবাদী ও বাসিন্দাদের নজরে ছিল। এর নিকটস্থ বিশাল তেল ট্যাংক ও উচ্চমাত্রার দূষণ নিয়ে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ কারণে ২০২২ সালে ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে হাইফা উপসাগর এলাকা থেকে রিফাইনারিটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছরেই বড় তেল ট্যাংক সরানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এই হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল