ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ

পারমাণবিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব জাতীয় স্বার্থবিরোধী: খামেনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • / 436

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাবকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রস্তাব ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য চলছে। খামেনি বলেন, “স্বাধীনতার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মতো দেশগুলোর সম্মতির অপেক্ষা না করা।”

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কি ফিকে হয়ে আসছে ?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কিছু উপাদান পেয়েছে। তবে তার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খামেনি সাফ জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির “মূল চাবিকাঠি”, এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, “যদি আমাদের ১০০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও থাকে, কিন্তু নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা না থাকে, তবে সেগুলো অচল হয়ে যাবে। কারণ, জ্বালানি না থাকলে এগুলো চালানো সম্ভব নয়, এবং সেই জ্বালানির জন্য আবার আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়তে হবে।”

এদিকে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সংস্থাটির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার বহু গুণ বেশি।

আইএইএর আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান অতীতে অঘোষিত স্থানে পাওয়া পারমাণবিক উপাদানের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও তেহরান এসব অভিযোগকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ইসরায়েলের সরবরাহকৃত জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে অভিহিত করেছে।

বর্তমানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে সেই সুযোগ অক্টোবরের পর আর থাকবে না।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

পারমাণবিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব জাতীয় স্বার্থবিরোধী: খামেনি

আপডেট সময় ০৪:১৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাবকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রস্তাব ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য চলছে। খামেনি বলেন, “স্বাধীনতার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মতো দেশগুলোর সম্মতির অপেক্ষা না করা।”

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা: ইসরায়েলে পৌঁছালো যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমার চালান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কিছু উপাদান পেয়েছে। তবে তার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খামেনি সাফ জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির “মূল চাবিকাঠি”, এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, “যদি আমাদের ১০০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও থাকে, কিন্তু নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা না থাকে, তবে সেগুলো অচল হয়ে যাবে। কারণ, জ্বালানি না থাকলে এগুলো চালানো সম্ভব নয়, এবং সেই জ্বালানির জন্য আবার আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়তে হবে।”

এদিকে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সংস্থাটির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার বহু গুণ বেশি।

আইএইএর আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান অতীতে অঘোষিত স্থানে পাওয়া পারমাণবিক উপাদানের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও তেহরান এসব অভিযোগকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ইসরায়েলের সরবরাহকৃত জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে অভিহিত করেছে।

বর্তমানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে সেই সুযোগ অক্টোবরের পর আর থাকবে না।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই।