ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 463

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৭

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আরও পড়ুন  সুপার এইটের লড়াইয়ে আজ পাকিস্তানের বাঁচা-মরার ম্যাচ

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।