ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

পিরোজপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 407

ছবি সংগৃহীত

 

বলেশ্বর নদীর নাব্য সংকট পিরোজপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র ঘাটতির সৃষ্টি করেছে। ফলে পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিন দুই বেলা দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন তা এক ঘণ্টাও মিলছে না। কখনো কখনো একদিন পরপর মিলছে অল্প পানি।

এই সংকটে পড়েছে পৌরসভার দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত পানির কলগুলোতে ঠিকমতো পানি আসছে না। যেটুকু পানি আসে, তা মোটরচালিত বাসিন্দারা তুলে নিচ্ছেন। ফলে যারা সাধারণভাবে কল থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসছেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেসের ঢাকা সফর আজ, হবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে জেলা মর্যাদা পাওয়া পিরোজপুরের পৌরসভাটি প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো। এক সময় পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে নির্ধারিত পুকুর ও নলকূপ ব্যবহার করা হতো। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৮৩ সালে পিরোজপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগ পানি শোধনাগার স্থাপন করে। শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হতো, যা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটারে দাঁড়ালেও, চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

বর্তমানে পৌরসভার সাত হাজার পরিবারের পানির চাহিদা রয়েছে, যেখানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র তিন হাজার পরিবারে। দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য ঘণ্টায় প্রয়োজন ১০ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন মাত্র তিন লাখ লিটার।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনেয়ারা বেগম আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহে এসে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। পানির তীব্র সংকটে আছি। প্রায় সব পরিবারের একই অবস্থা।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পানির সংকট চরমে উঠেছে। পৌরসভার উদাসীনতায় তারা প্রতিদিন কষ্টে আছেন। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দুই ঘণ্টা পানি দেওয়ার কথা থাকলেও এক ঘণ্টাও ঠিকমতো পানি পান না তারা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

সোমা মন্ডল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পানির জন্য আমাদের জীবন অচল হয়ে গেছে। গোসল, রান্নাবান্না সব কিছুতেই সমস্যায় পড়েছি। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান চাই।’

পানির এই সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুর পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বলেশ্বর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বনি আমিন বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সরবরাহ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা কেটে যাবে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পিরোজপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৬:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

বলেশ্বর নদীর নাব্য সংকট পিরোজপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র ঘাটতির সৃষ্টি করেছে। ফলে পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিন দুই বেলা দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন তা এক ঘণ্টাও মিলছে না। কখনো কখনো একদিন পরপর মিলছে অল্প পানি।

এই সংকটে পড়েছে পৌরসভার দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত পানির কলগুলোতে ঠিকমতো পানি আসছে না। যেটুকু পানি আসে, তা মোটরচালিত বাসিন্দারা তুলে নিচ্ছেন। ফলে যারা সাধারণভাবে কল থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসছেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন  তরুণদের অংশগ্রহণে সংকট কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ: অধ্যাপক ইউনূস

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে জেলা মর্যাদা পাওয়া পিরোজপুরের পৌরসভাটি প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো। এক সময় পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে নির্ধারিত পুকুর ও নলকূপ ব্যবহার করা হতো। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৮৩ সালে পিরোজপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগ পানি শোধনাগার স্থাপন করে। শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হতো, যা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটারে দাঁড়ালেও, চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

বর্তমানে পৌরসভার সাত হাজার পরিবারের পানির চাহিদা রয়েছে, যেখানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র তিন হাজার পরিবারে। দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য ঘণ্টায় প্রয়োজন ১০ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন মাত্র তিন লাখ লিটার।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনেয়ারা বেগম আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহে এসে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। পানির তীব্র সংকটে আছি। প্রায় সব পরিবারের একই অবস্থা।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পানির সংকট চরমে উঠেছে। পৌরসভার উদাসীনতায় তারা প্রতিদিন কষ্টে আছেন। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দুই ঘণ্টা পানি দেওয়ার কথা থাকলেও এক ঘণ্টাও ঠিকমতো পানি পান না তারা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

সোমা মন্ডল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পানির জন্য আমাদের জীবন অচল হয়ে গেছে। গোসল, রান্নাবান্না সব কিছুতেই সমস্যায় পড়েছি। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান চাই।’

পানির এই সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুর পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বলেশ্বর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বনি আমিন বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সরবরাহ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা কেটে যাবে।’