ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া: মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 395

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। এমন উত্তেজনাকর সময়ে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার সময় কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড, আকাশসীমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাহলে সেই দেশগুলোকেও যুদ্ধের জবাব পেতে হবে।

ইরাক, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও তুরস্কের কাছে এই বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা শত্রুতার সামিল, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ একই সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসন, ২০ মাসে ৩৫ হাজার হামলা : রিপোর্ট

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের আওতায় ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে চাচ্ছেন। চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানে বোমা ফেলবেন বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমনকি ইতোমধ্যে দিয়েগো গার্সিয়ায় বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে তেহরান কোনো চাপেই মাথা নত করছে না। ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও ইরান নাকচ করে দিয়েছে। পরিবর্তে তারা ওমানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার সূচনা হয়। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবারও চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন, তবে এবার সেটা হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে।

এই প্রেক্ষাপটে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতায় কাঁপছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই ভয়াবহ আগুন জ্বলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া: মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০১:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। এমন উত্তেজনাকর সময়ে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার সময় কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড, আকাশসীমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে, তাহলে সেই দেশগুলোকেও যুদ্ধের জবাব পেতে হবে।

ইরাক, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও তুরস্কের কাছে এই বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা শত্রুতার সামিল, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ একই সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সরবরাহে আপাতত শঙ্কা নেই, দামও বাড়ছে না: জ্বালানি উপদেষ্টা

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের আওতায় ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে চাচ্ছেন। চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানে বোমা ফেলবেন বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমনকি ইতোমধ্যে দিয়েগো গার্সিয়ায় বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে তেহরান কোনো চাপেই মাথা নত করছে না। ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও ইরান নাকচ করে দিয়েছে। পরিবর্তে তারা ওমানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার সূচনা হয়। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবারও চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন, তবে এবার সেটা হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির মাধ্যমে।

এই প্রেক্ষাপটে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতায় কাঁপছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই ভয়াবহ আগুন জ্বলবে।