ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক-সিরিয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগে নতুন চুক্তির উদ্যোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 210

ছবি সংগৃহীত

সিরিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে বড় অগ্রগতি আসতে চলেছে তুরস্কের সঙ্গে নতুন এক সমঝোতার মাধ্যমে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির জানিয়েছেন, শিগগিরই তুরস্ক থেকে ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ লাইনটি তুরস্কের কিলিস অঞ্চল থেকে সিরিয়ার আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি যৌথ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প নিয়েও অগ্রগতি হচ্ছে। মন্ত্রী আল-বাশির আরও জানান, কিলিস থেকে আলেপ্পো পর্যন্ত একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ছয় মিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা মূলত সিরিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন  কৃষ্ণসাগর উপকূল: তুরস্কের কম পরিচিত সৌন্দর্য

এদিকে, তুরস্কের হাতায় প্রদেশের রেইহানলি এবং সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের হারেম এলাকার মধ্যে নতুন একটি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের সম্ভাব্যতা নিয়েও গবেষণা শুরু হয়েছে। এই সংযোগ বাস্তবায়ন হলে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বাইরাকতার এক বক্তব্যে তুরস্কের জলসীমায় নতুন করে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ও উত্থাপন করেছেন। তার মতে, দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু সিরিয়ার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটেই স্বস্তি আসবে না, বরং তুরস্ক-সিরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্ক-সিরিয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগে নতুন চুক্তির উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৭:৩৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

সিরিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে বড় অগ্রগতি আসতে চলেছে তুরস্কের সঙ্গে নতুন এক সমঝোতার মাধ্যমে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির জানিয়েছেন, শিগগিরই তুরস্ক থেকে ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ লাইনটি তুরস্কের কিলিস অঞ্চল থেকে সিরিয়ার আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি যৌথ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প নিয়েও অগ্রগতি হচ্ছে। মন্ত্রী আল-বাশির আরও জানান, কিলিস থেকে আলেপ্পো পর্যন্ত একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ছয় মিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা মূলত সিরিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন  সিরিয়ায় প্রতিবিপ্লব ব্যর্থ: তুরস্ক ও কাতারের হস্তক্ষেপে প্রতিহত ষড়যন্ত্র

এদিকে, তুরস্কের হাতায় প্রদেশের রেইহানলি এবং সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের হারেম এলাকার মধ্যে নতুন একটি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের সম্ভাব্যতা নিয়েও গবেষণা শুরু হয়েছে। এই সংযোগ বাস্তবায়ন হলে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বাইরাকতার এক বক্তব্যে তুরস্কের জলসীমায় নতুন করে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ও উত্থাপন করেছেন। তার মতে, দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু সিরিয়ার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটেই স্বস্তি আসবে না, বরং তুরস্ক-সিরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।