ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে নদীর তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 275

ছবি সংগৃহীত

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় নদীরক্ষা বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) চুনকুড়ি নদীর পাশে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহরতলী গ্রামের বেড়িবাঁধে প্রায় ৩৫ মিটার জায়গাজুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার একদিন পর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জোয়ারের সময় বাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, হরিনগর বাজারের কাছে চুনকুড়ি নদীর পাড়ে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এলাকার মানুষকে বিকল্প সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। বাঁধ দ্রুত সংস্কার না হলে প্রবল স্রোতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন  সাতক্ষীরার বাগদা চিংড়িতে মরক, কালীগঞ্জের ঘেরে দুর্দশায় চাষিরা

বাঁধ ভেঙে গেলে আশেপাশের বসতবাড়ি, চিংড়ি ঘের, মিঠা পানির পুকুর, ফসলি জমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রনী খাতুন বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সকাল-সন্ধ্যা বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন।” তিনি আরও বলেন, “এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে বাঁধ সংস্কারে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

পানি উন্নয়ন বিভাগ-১, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দীন সানি বলেন, “চুনকুড়ি নদীর এই বেড়িবাঁধে শনিবার থেকে ৩০-৩৫ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকেই আমরা মেরামত কাজ শুরু করি। তবে আজ সকালে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীতে ডুবে যায়। বর্তমানে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “বাঁধে পানি প্রবেশ বন্ধ করতে ৫০-৬০ মিটার রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। খুব শিগগিরই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এছাড়া শ্যামনগরের আরও কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোরও কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্যামনগরে নদীর তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ০৭:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় নদীরক্ষা বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) চুনকুড়ি নদীর পাশে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহরতলী গ্রামের বেড়িবাঁধে প্রায় ৩৫ মিটার জায়গাজুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার একদিন পর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জোয়ারের সময় বাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, হরিনগর বাজারের কাছে চুনকুড়ি নদীর পাড়ে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এলাকার মানুষকে বিকল্প সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। বাঁধ দ্রুত সংস্কার না হলে প্রবল স্রোতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন  সাতক্ষীরার বাগদা চিংড়িতে মরক, কালীগঞ্জের ঘেরে দুর্দশায় চাষিরা

বাঁধ ভেঙে গেলে আশেপাশের বসতবাড়ি, চিংড়ি ঘের, মিঠা পানির পুকুর, ফসলি জমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রনী খাতুন বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সকাল-সন্ধ্যা বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন।” তিনি আরও বলেন, “এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে বাঁধ সংস্কারে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

পানি উন্নয়ন বিভাগ-১, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দীন সানি বলেন, “চুনকুড়ি নদীর এই বেড়িবাঁধে শনিবার থেকে ৩০-৩৫ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকেই আমরা মেরামত কাজ শুরু করি। তবে আজ সকালে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীতে ডুবে যায়। বর্তমানে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “বাঁধে পানি প্রবেশ বন্ধ করতে ৫০-৬০ মিটার রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। খুব শিগগিরই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এছাড়া শ্যামনগরের আরও কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোরও কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।