ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, নেই কোনো ঘাটতি: মির্জা ফখরুল ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসা শুরু দেশে মে মাস পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘মাইন’ আতঙ্ক, ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নামছে যুক্তরাষ্ট্র জনগণকে গর্জে উঠতে হবে’: মগবাজারের জামায়াত আমির পাকিস্তানে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ প্রাণহানি নম্বর গোপন রেখে চ্যাট করার সুযোগ: মেটার নতুন ফিচারে স্বস্তি পাবেন ব্যবহারকারীরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১ দিল্লিতে দুই বিমানের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা প্রথম হজ আজ: প্রথম দিনে ঢাকা ছাড়ছে ১৪টি ফ্লাইট

ঈদ উপলক্ষে ছুটির আট দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩২ জন: বিআরটিএ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 215

ছবি সংগৃহীত

 

 

ঈদের খুশির ছুটিতে সড়কে ঝরেছে শতাধিক প্রাণ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটির আট দিনে (২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। আহত হয়েছেন আরও ২০৮ জন।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য ঈদে ১৬ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকা বিভাগে। এখানে মোট ২৭টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩২ জন। মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় ২৩, রাজশাহীতে ১৪, রংপুরে ১১ এবং ময়মনসিংহে ১০ জন নিহত হন। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সিলেট ও বরিশাল বিভাগে যেখানে যথাক্রমে ৫ ও ৬ জন মারা গেছেন।

ঈদের দিনটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ৩১ মার্চ, ঈদের দিনেই সারা দেশে ঘটে ১৮টি দুর্ঘটনা, যেখানে মারা যান ২৪ জন। এর পরদিন ১ এপ্রিল নিহত হন ১৯ জন, এবং ২ এপ্রিল প্রাণ হারান ২২ জন।

২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। রাজধানীর মিরপুরের রফিকুল ইসলাম ও লুৎফুন নাহার তাঁদের তিন কন্যা এবং এক ভাগনিকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছিলেন মাইক্রোবাসে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান চারজন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাকি দুজনেরও। মাত্র একদিনেই একটি পরিবার হারাল ছয় সদস্যকে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ৯ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষ হয় ৫ এপ্রিল। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে এবার তা যেন মাত্রাতিরিক্ত রূপ নিয়েছে।

এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ঈদের আনন্দময় ভ্রমণ যেন শোকবার্তায় পরিণত না হয় এ জন্য এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ, সচেতনতা এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদ উপলক্ষে ছুটির আট দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩২ জন: বিআরটিএ

আপডেট সময় ০১:২৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ঈদের খুশির ছুটিতে সড়কে ঝরেছে শতাধিক প্রাণ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটির আট দিনে (২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। আহত হয়েছেন আরও ২০৮ জন।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক বন্দুক হামলায় ২ জন নিহত, আহত অন্তত ১২

বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকা বিভাগে। এখানে মোট ২৭টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩২ জন। মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় ২৩, রাজশাহীতে ১৪, রংপুরে ১১ এবং ময়মনসিংহে ১০ জন নিহত হন। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সিলেট ও বরিশাল বিভাগে যেখানে যথাক্রমে ৫ ও ৬ জন মারা গেছেন।

ঈদের দিনটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ৩১ মার্চ, ঈদের দিনেই সারা দেশে ঘটে ১৮টি দুর্ঘটনা, যেখানে মারা যান ২৪ জন। এর পরদিন ১ এপ্রিল নিহত হন ১৯ জন, এবং ২ এপ্রিল প্রাণ হারান ২২ জন।

২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। রাজধানীর মিরপুরের রফিকুল ইসলাম ও লুৎফুন নাহার তাঁদের তিন কন্যা এবং এক ভাগনিকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছিলেন মাইক্রোবাসে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান চারজন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাকি দুজনেরও। মাত্র একদিনেই একটি পরিবার হারাল ছয় সদস্যকে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ৯ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষ হয় ৫ এপ্রিল। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে এবার তা যেন মাত্রাতিরিক্ত রূপ নিয়েছে।

এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ঈদের আনন্দময় ভ্রমণ যেন শোকবার্তায় পরিণত না হয় এ জন্য এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ, সচেতনতা এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা।