ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬৭ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 45

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাথিউ ব্রিটজকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং কেশব মহারাজের চার উইকেটের স্পিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কিংসমিডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় ৬৭ রানের জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দল।

টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। শুরুতে সিদ্ধান্তটি সুবিধাজনক মনে হলেও ম্যাচের শেষ দিকে সেটিই অস্ট্রেলিয়ার জন্য উল্টো ফল বয়ে আনে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের বড় সংগ্রহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রিটজকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য শুরুতেই বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮ ওভারের মধ্যেই দলীয় ২৯ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও টনি ডি জর্জি। ডি কক ১৪ রান করলেও ডি জর্জি কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

আরও পড়ুন  টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন মোহাম্মদ আমির

এরপর চার নম্বরে নেমে দলের ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন ব্রিটজকে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন তিনি। ১৯তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হওয়ার আগে বাভুমার ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৩০ রান।

বাভুমা ফেরার পরও নিজের ব্যাটিং ছন্দ ধরে রাখেন ব্রিটজকে। রায়ান রিকেলটন ও ডেভিড মিলারের সঙ্গে দুটি কার্যকর জুটি গড়ার পর মার্কো ইয়ানসেনকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১০৭ রান। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে রানআউট হয়ে থামে ব্রিটজকের দুর্দান্ত ব্যাটিং। ১০৬ বল মোকাবিলা করে ১১২ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চার ও দুটি ছক্কায়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।

ব্রিটজকে ফেরার পরের ওভারেই নাথান এলিসের বলে আউট হন ইয়ানসেন। তবে তার আগে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই অলরাউন্ডার। মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কার মার।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস। ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। অ্যাডাম জাম্পা শিকার করেন দুটি উইকেট। এ ছাড়া জশ হ্যাজেলউডের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।

জয়ের জন্য ২৯৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা।

মার্শ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর মাত্র চার ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ম্যাট রেনশ করেন ৪৪ রান, কুপার কনলি ৩৮, ট্রাভিস হেড ৩৬ এবং মিচেল স্টার্ক ১৬ রান করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন স্পিনার কেশব মহারাজ। ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচে চার উইকেট তুলে নেন তিনি। তাকে ভালো সঙ্গ দেন বিয়র্ন ফোর্টুইন ও করবিন বশ—দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে জেরাল্ড কোয়েটজি একটি উইকেট নেন, আর একটি উইকেট পান মার্কো ইয়ানসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

৬৭ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট সময় ০৪:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যাথিউ ব্রিটজকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং কেশব মহারাজের চার উইকেটের স্পিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কিংসমিডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় ৬৭ রানের জয় তুলে নেয় স্বাগতিক দল।

টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। শুরুতে সিদ্ধান্তটি সুবিধাজনক মনে হলেও ম্যাচের শেষ দিকে সেটিই অস্ট্রেলিয়ার জন্য উল্টো ফল বয়ে আনে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের বড় সংগ্রহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রিটজকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য শুরুতেই বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮ ওভারের মধ্যেই দলীয় ২৯ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও টনি ডি জর্জি। ডি কক ১৪ রান করলেও ডি জর্জি কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

আরও পড়ুন  টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে চোকার’ তকমা ঘুচানোর দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকা

এরপর চার নম্বরে নেমে দলের ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন ব্রিটজকে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রান যোগ করেন তিনি। ১৯তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হওয়ার আগে বাভুমার ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৩০ রান।

বাভুমা ফেরার পরও নিজের ব্যাটিং ছন্দ ধরে রাখেন ব্রিটজকে। রায়ান রিকেলটন ও ডেভিড মিলারের সঙ্গে দুটি কার্যকর জুটি গড়ার পর মার্কো ইয়ানসেনকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১০৭ রান। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে রানআউট হয়ে থামে ব্রিটজকের দুর্দান্ত ব্যাটিং। ১০৬ বল মোকাবিলা করে ১১২ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চার ও দুটি ছক্কায়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।

ব্রিটজকে ফেরার পরের ওভারেই নাথান এলিসের বলে আউট হন ইয়ানসেন। তবে তার আগে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই অলরাউন্ডার। মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কার মার।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস। ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। অ্যাডাম জাম্পা শিকার করেন দুটি উইকেট। এ ছাড়া জশ হ্যাজেলউডের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।

জয়ের জন্য ২৯৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা।

মার্শ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর মাত্র চার ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ম্যাট রেনশ করেন ৪৪ রান, কুপার কনলি ৩৮, ট্রাভিস হেড ৩৬ এবং মিচেল স্টার্ক ১৬ রান করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন স্পিনার কেশব মহারাজ। ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচে চার উইকেট তুলে নেন তিনি। তাকে ভালো সঙ্গ দেন বিয়র্ন ফোর্টুইন ও করবিন বশ—দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে জেরাল্ড কোয়েটজি একটি উইকেট নেন, আর একটি উইকেট পান মার্কো ইয়ানসেন।