নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় ১০:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্কের হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানবন্দর এবং হোটেলের আশপাশে জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। তাঁরা স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন তিনি।
এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এবারের সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন। একই দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর জন্য বরাদ্দ সময় ১৫ মিনিট; তবে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। এবারের ভাষণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম বক্তব্য হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরার কথা রয়েছে।
ভাষণ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি রয়েছে।
একই দিন ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সূচি অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে
বক্তব্য দিয়েছেন।























