ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ ১৪৯ বছর পর টেস্টে নতুন ইতিহাস গড়লেন জো রুট শিশু ধর্ষণ মামলায় চট্টগ্রামে প্রতিবেশীর আমৃত্যু কারাদণ্ড ভারতের সঙ্গে নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশে মেধার অভাব নেই, প্রয়োজন গবেষণার সুযোগ: মাহদী আমিন গ্যাস সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ঘাটতি: একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. বদরুল ইমাম গালিগালাজ আর গঠনমূলক সমালোচনা এক বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে চালু হচ্ছে লটারি পদ্ধতি ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা, নিহত ১

গ্যাস সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ঘাটতি: একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. বদরুল ইমাম

সাইদুল ইসলাম সাইদ
  • আপডেট সময় ০৫:২৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 35

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের চলমান গ্যাস সংকট, নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনা ও উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ‘খবরের কথা’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ড. বদরুল ইমাম। তাঁর মতে, দেশে গ্যাসের সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে ঘাটতির ধারাবাহিক ফল হিসেবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি গ্যাসসমৃদ্ধ অন্যান্য বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে তুলনীয় হওয়ায় এখানে গ্যাসের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই ভূতত্ত্ববিদ।

‘খবরের কথা’: বর্তমানে দেশে যে গ্যাস সংকট চলছে, এর মূল কারণ কী?

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকটে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ

ড. বদরুল ইমাম: গ্যাসের সংকট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফল হিসেবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা জানি, বাংলাদেশে গ্যাসের প্রাচুর্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশের ভূ-প্রকৃতি পৃথিবীর গ্যাসসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে তুলনীয়। সে হিসেবে এখানে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস থাকার কথা।

কিন্তু মাটির নিচে গ্যাস থাকলেই তো সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরে উঠে আসবে না। এর জন্য অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে এই দুই ক্ষেত্রেই। অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে আমাদের গ্যাসের অভাব থাকবে না।

আমি এটিকে শুধু দুর্বলতা হিসেবে দেখব না। তবে আমাদের একটি বড় ঘাটতি হলো পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম না থাকা। ফলে আমাদের যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটি আমরা পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারছি না। আর সম্ভাবনা উন্মোচিত না হলে সেই গ্যাস উত্তোলনও সম্ভব নয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন বদ্বীপ এলাকায় গ্যাসের সমৃদ্ধি দেখা যায়। নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এ ধরনের বদ্বীপ অঞ্চল রয়েছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ এলাকা। ফলে এখানে গ্যাসের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা থাকার কথা। কিন্তু শুধু সম্ভাবনা থাকলেই হবে না, সেটিকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে শনাক্ত এবং পরে উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের কার্যক্রমে ঘাটতি থাকার কারণেই আমরা এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না।

‘খবরের কথা’: তাহলে গ্যাস উত্তোলনের কার্যক্রম কেন হচ্ছে না বা ধীরগতিতে চলছে? কেন আমদানিনির্ভরতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

ড. বদরুল ইমাম: এটা আসলে ধারাবাহিকভাবে আমাদের দেশে নিজস্ব সম্পদ আহরণের জন্য যে উদ্যোগ প্রয়োজন, তার ঘাটতির বিষয়। আমি এটাকে এক অর্থে জাতীয় মানসিকতার ঘাটতি বলব।

স্বনির্ভর হওয়া একটি বিষয়, আর স্বনির্ভর না হয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে থাকা আরেকটি বিষয়। স্বনির্ভর হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্য ও উদ্যোগ প্রয়োজন। আপনি যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে না চান, তাহলে অন্য কেউ এসে আপনাকে দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের এখানে সেই জায়গায় ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে—এটি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। পৃথিবীর যেসব গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চল রয়েছে, বিশেষ করে বদ্বীপ এলাকাগুলোতে, সেসব জায়গায় বিপুল গ্যাসসম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।

নাইজেরিয়ার নাইজার বদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন বদ্বীপ অঞ্চলে প্রচুর গ্যাসসম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশও পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। ফলে আমাদেরও গ্যাসসমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম প্রয়োজন, সেখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে।

‘খবরের কথা’: তাহলে বদ্বীপ অঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সম্ভাবনা বেশি?

ড. বদরুল ইমাম: বৈজ্ঞানিকভাবেই বদ্বীপ অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রাকৃতিকভাবেও বদ্বীপ এলাকায় গ্যাস তৈরির অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।

বদ্বীপ এমন একটি ভূমি, যা পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীর মাধ্যমে ধীরে ধীরে পলি জমে তৈরি হয়। নদীর সঙ্গে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও জীবজৈবিক পদার্থও এসে সেখানে জমা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব জৈব পদার্থ মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস তৈরি হয়। পরে সেই গ্যাস ভূগর্ভে জমা হতে পারে।

এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার কারণেই বাংলাদেশে গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা আগে থেকেই মনে করে আসছি।

ড. বদরুল ইমাম
অধ্যাপক
ভূতত্ত্ব বিভাগ
পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ঘাটতি: একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. বদরুল ইমাম

আপডেট সময় ০৫:২৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দেশের চলমান গ্যাস সংকট, নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনা ও উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ‘খবরের কথা’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ড. বদরুল ইমাম। তাঁর মতে, দেশে গ্যাসের সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে ঘাটতির ধারাবাহিক ফল হিসেবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি গ্যাসসমৃদ্ধ অন্যান্য বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে তুলনীয় হওয়ায় এখানে গ্যাসের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই ভূতত্ত্ববিদ।

‘খবরের কথা’: বর্তমানে দেশে যে গ্যাস সংকট চলছে, এর মূল কারণ কী?

আরও পড়ুন  কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ জানালেন রিজভী

ড. বদরুল ইমাম: গ্যাসের সংকট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফল হিসেবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা জানি, বাংলাদেশে গ্যাসের প্রাচুর্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশের ভূ-প্রকৃতি পৃথিবীর গ্যাসসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে তুলনীয়। সে হিসেবে এখানে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস থাকার কথা।

কিন্তু মাটির নিচে গ্যাস থাকলেই তো সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরে উঠে আসবে না। এর জন্য অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে এই দুই ক্ষেত্রেই। অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে আমাদের গ্যাসের অভাব থাকবে না।

আমি এটিকে শুধু দুর্বলতা হিসেবে দেখব না। তবে আমাদের একটি বড় ঘাটতি হলো পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম না থাকা। ফলে আমাদের যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটি আমরা পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারছি না। আর সম্ভাবনা উন্মোচিত না হলে সেই গ্যাস উত্তোলনও সম্ভব নয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন বদ্বীপ এলাকায় গ্যাসের সমৃদ্ধি দেখা যায়। নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এ ধরনের বদ্বীপ অঞ্চল রয়েছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ এলাকা। ফলে এখানে গ্যাসের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা থাকার কথা। কিন্তু শুধু সম্ভাবনা থাকলেই হবে না, সেটিকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে শনাক্ত এবং পরে উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের কার্যক্রমে ঘাটতি থাকার কারণেই আমরা এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না।

‘খবরের কথা’: তাহলে গ্যাস উত্তোলনের কার্যক্রম কেন হচ্ছে না বা ধীরগতিতে চলছে? কেন আমদানিনির্ভরতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

ড. বদরুল ইমাম: এটা আসলে ধারাবাহিকভাবে আমাদের দেশে নিজস্ব সম্পদ আহরণের জন্য যে উদ্যোগ প্রয়োজন, তার ঘাটতির বিষয়। আমি এটাকে এক অর্থে জাতীয় মানসিকতার ঘাটতি বলব।

স্বনির্ভর হওয়া একটি বিষয়, আর স্বনির্ভর না হয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে থাকা আরেকটি বিষয়। স্বনির্ভর হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্য ও উদ্যোগ প্রয়োজন। আপনি যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে না চান, তাহলে অন্য কেউ এসে আপনাকে দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের এখানে সেই জায়গায় ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে—এটি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। পৃথিবীর যেসব গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চল রয়েছে, বিশেষ করে বদ্বীপ এলাকাগুলোতে, সেসব জায়গায় বিপুল গ্যাসসম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।

নাইজেরিয়ার নাইজার বদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন বদ্বীপ অঞ্চলে প্রচুর গ্যাসসম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশও পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। ফলে আমাদেরও গ্যাসসমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম প্রয়োজন, সেখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে।

‘খবরের কথা’: তাহলে বদ্বীপ অঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সম্ভাবনা বেশি?

ড. বদরুল ইমাম: বৈজ্ঞানিকভাবেই বদ্বীপ অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রাকৃতিকভাবেও বদ্বীপ এলাকায় গ্যাস তৈরির অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।

বদ্বীপ এমন একটি ভূমি, যা পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীর মাধ্যমে ধীরে ধীরে পলি জমে তৈরি হয়। নদীর সঙ্গে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও জীবজৈবিক পদার্থও এসে সেখানে জমা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব জৈব পদার্থ মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস তৈরি হয়। পরে সেই গ্যাস ভূগর্ভে জমা হতে পারে।

এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার কারণেই বাংলাদেশে গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা আগে থেকেই মনে করে আসছি।

ড. বদরুল ইমাম
অধ্যাপক
ভূতত্ত্ব বিভাগ
পৃথিবী ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়