ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘সৃজনশীল’ বাজেট: মির্জা ফখরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 44

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘সৃজনশীল বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এমন বাস্তবতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত বাজেট দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন  শীর্ষ নেতাদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

তিনি জানান, বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের কর-রেয়াত ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবার এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, মৎস্য, সেচ ও পানি সংরক্ষণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, প্রবাসী, এসএমই খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, লোকজ পণ্য, খেলাধুলা ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ দেশের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

তিনি জানান, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠা, ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গঠন, ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক করবে।

কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, করদাতাদের হয়রানি কমাতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক করসেবা, কাস্টমসের অটোমেশন এবং সহজ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিও ইতিবাচক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘সৃজনশীল’ বাজেট: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১২:১৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘সৃজনশীল বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এমন বাস্তবতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত বাজেট দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন  শীর্ষ নেতাদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

তিনি জানান, বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের কর-রেয়াত ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবার এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, মৎস্য, সেচ ও পানি সংরক্ষণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, প্রবাসী, এসএমই খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, লোকজ পণ্য, খেলাধুলা ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ দেশের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

তিনি জানান, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠা, ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গঠন, ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক করবে।

কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, করদাতাদের হয়রানি কমাতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক করসেবা, কাস্টমসের অটোমেশন এবং সহজ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিও ইতিবাচক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।