ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

নির্বাচনে সামান্য বিচ্যুতিও চলবে না: সশস্ত্র বাহিনীকে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 716

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

আরও পড়ুন  গণভোট না বুঝায় ভোটের লাইনে সময় বেশি লাগছে

সভায় শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন নির্বাচন তার বাস্তব প্রতিফলন। গণভোটে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ সময় এই সক্ষমতা অবহেলিত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই এর উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। এসব উদ্যোগ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর প্রধানরা স্বাগত জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে সামান্য বিচ্যুতিও চলবে না: সশস্ত্র বাহিনীকে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

আরও পড়ুন  মাতৃভাষা দিবসে স্মারক ডাকটিকিট ও সিলমোহর অবমুক্ত করলেন c

সভায় শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন নির্বাচন তার বাস্তব প্রতিফলন। গণভোটে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ সময় এই সক্ষমতা অবহেলিত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই এর উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। এসব উদ্যোগ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর প্রধানরা স্বাগত জানান।