ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক বিশ্ব রাজনীতিতে ‘পাকা খেলোয়াড়’ : এরদোয়ান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • / 221

ছবি: সংগৃহীত

 

বিশ্ব রাজনীতিতে তুরস্ক শুধু একটি নীরব পর্যবেক্ষক দেশ নয়, বরং একটি ‘পাকা খেলোয়াড়’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তিনি এ মন্তব্যটি ইস্তানবুলে আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, যা সম্প্রতি রমজানের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি'র তৎপরতায় রাজনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে তিনটি বলয়

তুর্কি সংবাদপত্র হুরিয়েত ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার বক্তব্যে তুরস্কের অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

এরদোয়ান বলেন, আজকের তুরস্ক একটি শক্তিশালী, কার্যকরী দেশ, যা প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘপ্রসারী প্রভাব রাখছে। আমরা এখন শুধু নিজেদের জনগণের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের জন্যও একটি আশার প্রতীক হয়ে উঠেছি।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কারাবন্দি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) নেতা আবদুল্লাহ ওজালান তার দলের সদস্যদের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বান পিকেকে এবং তুরস্ক সরকারের মধ্যে এক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা সবসময় শান্তি ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেই, তবে যদি আমাদের প্রসারিত হাত প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে আমাদের লৌহমুষ্ঠি সবসময় প্রস্তুত থাকবে।

তিনি তুরস্কের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে যে কুটিল ও গোপন ষড়যন্ত্র চলছে, তা আমরা ব্যর্থ করে দিচ্ছি। আমরা পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত একটি তুরস্ক গড়তে কাজ করছি।

এরদোয়ানের বক্তব্যের পরপরই পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়।

তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের শান্তি ও গণতন্ত্রের আহ্বান বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে আমরা আজ থেকে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করছি। এই ঘোষণার মাধ্যমে পিকেকে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

এদিকে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, তুরস্কের সংসদে কুর্দি সমর্থিত দল ডিইএম পার্টি ওজালানের ঐতিহাসিক বার্তা প্রচার করে, যেখানে তিনি তার সংগঠনকে অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানান। এই ঘোষণাটি তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্ক বিশ্ব রাজনীতিতে ‘পাকা খেলোয়াড়’ : এরদোয়ান

আপডেট সময় ১০:১৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

 

বিশ্ব রাজনীতিতে তুরস্ক শুধু একটি নীরব পর্যবেক্ষক দেশ নয়, বরং একটি ‘পাকা খেলোয়াড়’ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তিনি এ মন্তব্যটি ইস্তানবুলে আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, যা সম্প্রতি রমজানের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  ঈদের পর উপনির্বাচন ও তিন সিটি নির্বাচন

তুর্কি সংবাদপত্র হুরিয়েত ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার বক্তব্যে তুরস্কের অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

এরদোয়ান বলেন, আজকের তুরস্ক একটি শক্তিশালী, কার্যকরী দেশ, যা প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘপ্রসারী প্রভাব রাখছে। আমরা এখন শুধু নিজেদের জনগণের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের জন্যও একটি আশার প্রতীক হয়ে উঠেছি।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কারাবন্দি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) নেতা আবদুল্লাহ ওজালান তার দলের সদস্যদের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বান পিকেকে এবং তুরস্ক সরকারের মধ্যে এক নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা সবসময় শান্তি ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেই, তবে যদি আমাদের প্রসারিত হাত প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে আমাদের লৌহমুষ্ঠি সবসময় প্রস্তুত থাকবে।

তিনি তুরস্কের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে যে কুটিল ও গোপন ষড়যন্ত্র চলছে, তা আমরা ব্যর্থ করে দিচ্ছি। আমরা পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত একটি তুরস্ক গড়তে কাজ করছি।

এরদোয়ানের বক্তব্যের পরপরই পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়।

তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের শান্তি ও গণতন্ত্রের আহ্বান বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে আমরা আজ থেকে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করছি। এই ঘোষণার মাধ্যমে পিকেকে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

এদিকে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, তুরস্কের সংসদে কুর্দি সমর্থিত দল ডিইএম পার্টি ওজালানের ঐতিহাসিক বার্তা প্রচার করে, যেখানে তিনি তার সংগঠনকে অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানান। এই ঘোষণাটি তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে।