ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পলাশবাড়ীতে ভাড়া বাসা থেকে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হুথির যুদ্ধ ঘোষণা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা মেয়ের বিরল অসুখ নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন বরুণ ধাওয়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল সব পেট্রোল পাম্পে সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত, কড়া নজরদারিতে জ্বালানি খাত দুবাইয়ে ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টি বজ্রপাতের কবলে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা বাসের জানালার গ্রিল: নিরাপত্তা নাকি মরণফাঁদ? দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডিতে উঠছে প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে ট্রাকের ধাক্কায় কলেজছাত্রের মৃত্যু, বন্ধু হাসপাতালে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার মার্কিন ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আন্দোলনের ডাক,ট্রাম্পকে সরাতে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ

বাসের জানালার গ্রিল: নিরাপত্তা নাকি মরণফাঁদ? দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডিতে উঠছে প্রশ্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 20

ছবি: খবরের কথা গ্রাফিক্স

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনায় নতুন এক নিরাপত্তা সংকট জনসম্মুখে উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার পর প্রাণহানির চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বাসের জানালার মাঝখানে থাকা অতিরিক্ত লোহার রড বা গ্রিল। যা মূলত যাত্রীদের হাত-মাথা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে লাগানো হলেও, জরুরি পরিস্থিতিতে তা ‘অবরুদ্ধ মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে ‘সোহদ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তাল পদ্মায় তলিয়ে যায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাণে বেঁচে ফেরা কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি যখন ডুবতে শুরু করে, তখন ভেতরে থাকা যাত্রীরা মরিয়া হয়ে জানালার কাচ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জানালার ঠিক মাঝখানে আড়াআড়িভাবে লাগানো শক্ত এসএস পাইপ বা লোহার গ্রিলের কারণে বড় কোনো মানুষের শরীর বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চোখের সামনে জানালা খোলা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে মারা যান।

আরও পড়ুন  আরব আমিরাতের কাছে ১৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

উদ্ধারকারীদের পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে, পানির নিচে বাসের ওই লোহার রডগুলো কেটে যাত্রীদের বের করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

তারা মনে করছেন:
* নির্গমন পথে বাধা: যদি জানালায় এই অতিরিক্ত রডগুলো না থাকতো, তবে অন্তত সুস্থ ও সক্ষম যাত্রীরা দ্রুত সাঁতরে বেরিয়ে আসতে পারতেন।
* বেআইনি কাঠামো: বিআরটিএ  কর্মকর্তাদের দাবি, বাসের জানালায় এ ধরনের লোহার রড লাগানোর বিষয়টি তাদের অনুমোদিত মূল নকশার অংশ নয়। বাস মালিকরা মূলত রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্যান্য বাহ্যিক কারণে নিজ উদ্যোগে এগুলো সংযোজন করেন।

জনরোষ ও আইনি দাবি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা বাসের জানালাগুলোকে ‘জরুরি বহির্গমন বান্ধব’ করার দাবি তুলেছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
* অবিলম্বে বাসের জানালা থেকে অপ্রয়োজনীয় লোহার রড অপসারণ করতে হবে।
* এমন কোনো কাঠামো রাখা যাবে না যা জরুরি অবস্থায় ভেঙে বের হতে বাধা দেয়।
* ফিটনেস পরীক্ষার সময় জানালার সুরক্ষা ও নির্গমন ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, নিরাপত্তার নামে আমাদের গণপরিবহনে যেসব অননুমোদিত পরিবর্তন আনা হয়, তা অনেক সময় জীবন রক্ষার চেয়ে জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের সড়ক ও নৌপথের নিরাপত্তা বিধিতে আমূল পরিবর্তন ও কঠোর আইন প্রয়োগই এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাসের জানালার গ্রিল: নিরাপত্তা নাকি মরণফাঁদ? দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডিতে উঠছে প্রশ্ন

আপডেট সময় ১২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনায় নতুন এক নিরাপত্তা সংকট জনসম্মুখে উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার পর প্রাণহানির চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বাসের জানালার মাঝখানে থাকা অতিরিক্ত লোহার রড বা গ্রিল। যা মূলত যাত্রীদের হাত-মাথা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে লাগানো হলেও, জরুরি পরিস্থিতিতে তা ‘অবরুদ্ধ মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে ‘সোহদ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তাল পদ্মায় তলিয়ে যায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাণে বেঁচে ফেরা কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি যখন ডুবতে শুরু করে, তখন ভেতরে থাকা যাত্রীরা মরিয়া হয়ে জানালার কাচ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জানালার ঠিক মাঝখানে আড়াআড়িভাবে লাগানো শক্ত এসএস পাইপ বা লোহার গ্রিলের কারণে বড় কোনো মানুষের শরীর বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চোখের সামনে জানালা খোলা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে মারা যান।

আরও পড়ুন  ঈদুল ফিতরের জন্য মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

উদ্ধারকারীদের পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে, পানির নিচে বাসের ওই লোহার রডগুলো কেটে যাত্রীদের বের করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

তারা মনে করছেন:
* নির্গমন পথে বাধা: যদি জানালায় এই অতিরিক্ত রডগুলো না থাকতো, তবে অন্তত সুস্থ ও সক্ষম যাত্রীরা দ্রুত সাঁতরে বেরিয়ে আসতে পারতেন।
* বেআইনি কাঠামো: বিআরটিএ  কর্মকর্তাদের দাবি, বাসের জানালায় এ ধরনের লোহার রড লাগানোর বিষয়টি তাদের অনুমোদিত মূল নকশার অংশ নয়। বাস মালিকরা মূলত রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্যান্য বাহ্যিক কারণে নিজ উদ্যোগে এগুলো সংযোজন করেন।

জনরোষ ও আইনি দাবি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা বাসের জানালাগুলোকে ‘জরুরি বহির্গমন বান্ধব’ করার দাবি তুলেছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
* অবিলম্বে বাসের জানালা থেকে অপ্রয়োজনীয় লোহার রড অপসারণ করতে হবে।
* এমন কোনো কাঠামো রাখা যাবে না যা জরুরি অবস্থায় ভেঙে বের হতে বাধা দেয়।
* ফিটনেস পরীক্ষার সময় জানালার সুরক্ষা ও নির্গমন ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, নিরাপত্তার নামে আমাদের গণপরিবহনে যেসব অননুমোদিত পরিবর্তন আনা হয়, তা অনেক সময় জীবন রক্ষার চেয়ে জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের সড়ক ও নৌপথের নিরাপত্তা বিধিতে আমূল পরিবর্তন ও কঠোর আইন প্রয়োগই এখন সময়ের দাবি।