বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। তবে বিরোধী দল আলোচনায় অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করবে এবং আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। বিরোধী দলকে একাধিকবার আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা অংশ না নিলেও সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন জাতির প্রত্যাশা এবং সরকারের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশনের সহসভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকার এখন সনদটি বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলকে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দেওয়া হলে তাঁদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ কমিটির প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের আলোচনা ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের বিধান নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা বা অতিরিক্ত নমনীয়তা এড়াতে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও মতামত এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার বিধান বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়েও মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার নিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে এর এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত দেবেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে আলোচনায় কিছু নীতিকে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে শিক্ষাবিদেরা মতামত দিয়েছেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশ নেন।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরাও অংশগ্রহণ করেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি জানান, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।
























