১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মহারাষ্ট্রের স্বার্থই মুখ্য, প্রয়োজনে ট্রাম্পকেও সমর্থন দেব: রাজ ঠাকরে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 27

ছবি : সংগৃহীত

 

রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখানো মানেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। তাঁর ভাষায়, মহারাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হলে প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিকেও সমর্থন করতে পারেন।

শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ ঠাকরে বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে মারাঠি জনগণের কল্যাণ, মারাঠি ভাষার মর্যাদা এবং একটি শক্তিশালী মহারাষ্ট্র গড়ে তোলা। এসব প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করতে রাজি নন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বৃহন্মুম্বাই পুরসভা (বিএমসি) নির্বাচন সামনে রেখে নিজের কাজিন ও শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রসঙ্গে রাজ ঠাকরে জানান, এটি নিছক রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নয়। তিনি বলেন, লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন পথ বেছে নেওয়া যেতেই পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে পানি পৌঁছানো দরকার, সেখানে যদি উদ্দেশ্য সৎ হয়, তাহলে পদ্ধতি নিয়ে সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয়।”

মারাঠি ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমএনএস প্রধান। তাঁর অভিযোগ, মর্যাদা দেওয়া হলেও ভাষাটির বিকাশ ও সংরক্ষণের জন্য কোনো বাস্তব আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, মর্যাদা ঘোষণার পরও মারাঠি ভাষার জন্য এক টাকাও বরাদ্দ হয়নি, অথচ সংস্কৃত ভাষার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত অর্থ ছাড়া কোনো ভাষার টিকে থাকা বা সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজ ঠাকরে স্পষ্ট করে বলেন, মারাঠি ভাষার প্রশ্নে তাঁর ও উদ্ধব ঠাকরের ঐক্য একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই। এটি কেবল ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য, এর বাইরে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, ভাষার আন্দোলন আর নির্বাচনী রাজনীতি এক বিষয় নয়।
মহারাষ্ট্রের উন্নয়ন ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা আন্তর্জাতিক পরিচিতির চেয়ে রাজ্যের স্বার্থই বড় বলে মনে করেন রাজ ঠাকরে। সে কারণেই তিনি বলেন, রাজ্যের উপকার হলে ট্রাম্পের মতো নেতাকেও সমর্থন জানাতে তাঁর আপত্তি নেই।

এমএনএস প্রধান আরও জানান, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থাকলেও মারাঠি পরিচয় ও স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কখনোই নরম হবেন না। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং তাঁর পারিবারিক ও আদর্শিক বিশ্বাসের অংশ। তিনি বলেন, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে, তাঁর বাবা ও ঠাকুরদার কাছ থেকেই তিনি এই মূল্যবোধ পেয়েছেন।

নিজেকে আজীবন ‘মনেপ্রাণে মারাঠি’ বলে উল্লেখ করে রাজ ঠাকরে শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট করে দেন, মারাঠি ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নে কোনো ধরনের পিছু হটার জায়গা তাঁর রাজনীতিতে নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

মহারাষ্ট্রের স্বার্থই মুখ্য, প্রয়োজনে ট্রাম্পকেও সমর্থন দেব: রাজ ঠাকরে

আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখানো মানেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। তাঁর ভাষায়, মহারাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষিত হলে প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিকেও সমর্থন করতে পারেন।

শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ ঠাকরে বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে মারাঠি জনগণের কল্যাণ, মারাঠি ভাষার মর্যাদা এবং একটি শক্তিশালী মহারাষ্ট্র গড়ে তোলা। এসব প্রশ্নে তিনি কোনো আপস করতে রাজি নন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বৃহন্মুম্বাই পুরসভা (বিএমসি) নির্বাচন সামনে রেখে নিজের কাজিন ও শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রসঙ্গে রাজ ঠাকরে জানান, এটি নিছক রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নয়। তিনি বলেন, লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন পথ বেছে নেওয়া যেতেই পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে পানি পৌঁছানো দরকার, সেখানে যদি উদ্দেশ্য সৎ হয়, তাহলে পদ্ধতি নিয়ে সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয়।”

মারাঠি ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমএনএস প্রধান। তাঁর অভিযোগ, মর্যাদা দেওয়া হলেও ভাষাটির বিকাশ ও সংরক্ষণের জন্য কোনো বাস্তব আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, মর্যাদা ঘোষণার পরও মারাঠি ভাষার জন্য এক টাকাও বরাদ্দ হয়নি, অথচ সংস্কৃত ভাষার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত অর্থ ছাড়া কোনো ভাষার টিকে থাকা বা সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজ ঠাকরে স্পষ্ট করে বলেন, মারাঠি ভাষার প্রশ্নে তাঁর ও উদ্ধব ঠাকরের ঐক্য একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই। এটি কেবল ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য, এর বাইরে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, ভাষার আন্দোলন আর নির্বাচনী রাজনীতি এক বিষয় নয়।
মহারাষ্ট্রের উন্নয়ন ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা আন্তর্জাতিক পরিচিতির চেয়ে রাজ্যের স্বার্থই বড় বলে মনে করেন রাজ ঠাকরে। সে কারণেই তিনি বলেন, রাজ্যের উপকার হলে ট্রাম্পের মতো নেতাকেও সমর্থন জানাতে তাঁর আপত্তি নেই।

এমএনএস প্রধান আরও জানান, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থাকলেও মারাঠি পরিচয় ও স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কখনোই নরম হবেন না। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং তাঁর পারিবারিক ও আদর্শিক বিশ্বাসের অংশ। তিনি বলেন, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে, তাঁর বাবা ও ঠাকুরদার কাছ থেকেই তিনি এই মূল্যবোধ পেয়েছেন।

নিজেকে আজীবন ‘মনেপ্রাণে মারাঠি’ বলে উল্লেখ করে রাজ ঠাকরে শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট করে দেন, মারাঠি ভাষা ও পরিচয়ের প্রশ্নে কোনো ধরনের পিছু হটার জায়গা তাঁর রাজনীতিতে নেই।